কক্ষের সামনে ময়লার স্তূপ। দরজায় উঁকি দিলে দেখা যায় শত শত মুখ। কেউ শুয়ে, কারও হাতে মোবাইল ফোন, কেউবা দাঁড়িয়ে কথায় ব্যস্ত। মেঝেতে অগোছালোভাবে পাতা কয়েকশ’ বেড। তোশকগুলো তোশক কি না দেখে বোঝার উপায় নেই। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বই, কোনো টেবিল নেই। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের একটি কক্ষের চিত্র। ‘গণরুম’ নামে পরিচিত এ কক্ষে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ৩০০ জন ছাত্রের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলে গণরুমে ২৫ থেকে ৪০ জন থাকে। এই হলে সেই অবস্থা আরও শোচনীয়। মেঘনা ভবনের তৃতীয় তলায় ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় এই গণরুম। কক্ষটির আয়তনও বড়। এটি মূলত ছাত্রদের ইনডোর গেমসের জন্য ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল। এটি ছাড়াও বিজয় একাত্তর হলে আরও দুটি গণরুম আছে। সবমিলে শরণার্থী শিবিরে থাকার মতো দিন পার করছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সর্বশেষ নির্মিত এই হলের পাঁচ শতাধিক ছাত্র।
ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বড় টিভিরুম থাকলেও বসার চেয়ার নেই। কক্ষজুড়ে ময়লার স্তূপ। এই ভবনের চতুর্থ তলায় হল গ্রন্থাগারে নেই পর্যাপ্ত বই। ছাত্রদের অভিযোগ, এটি নিয়মিত খোলা হয় না। এটির সামনেও আশ্রয় নিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী। অফিস সূত্রে জানা যায়, এই হলে ৪ বেডের ২৫০টি কক্ষ আছে। সেই হিসেবে এক হাজার শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন ২ হাজার ৬শ জন।
এক আবাসিক ছাত্র বলেন, হলে বার্ষিক ফি নেওয়া হয় ৩৩০০ টাকা। অন্য হলের তুলনায় এ পরিমাণ অনেক বেশি। এটি কমানো প্রয়োজন। কয়েকজন ছাত্র জানান, ক্যান্টিনের খাবারের মান খারাপ, প্রায় সময় খাবারে ময়লা পাওয়া যায়। ২৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য পাঠকক্ষ মাত্র ২টি। ফলে বসার জায়গা পেতে চলে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। ক্রীড়াকক্ষে উপকরণ নেই। কম্পিউটার ল্যাবে নেই প্রশিক্ষক। এছাড়া ডিবেটিং ক্লাব, সাহিত্য ক্লাব, কুইজ সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠন থাকলেও তাদের জন্য কক্ষ বরাদ্দ নেই।
জানতে চাইলে হলে ছাত্রলীগের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী সজিব উর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে প্রধান সমস্যা গণরুম। আমরা প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া বার্ষিক ফি অনেক বেশি। আমরা এই বিষয়ে কাজ করব।’ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী নাজমুল হাসান নিশান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে সব সমস্যার মুখোমুখি হয় সেগুলো সমাধান করব।’
এই হলে ছাত্রদল থেকে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রার্থী দিয়েছে। ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী বজলুর রহমান বিজয় বলেন, ‘বার্ষিক ফি বেশি, মশার সমস্যা রয়েছে। এর সমাধানে কাজ করব। গণরুম, গেস্টরুমের নামে নির্যাতন বন্ধ করব।’
