শাহজালাল বিমানবন্দর

তল্লাশির আওতায় আসছে যাত্রীদের পরিচ্ছদও

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০৩:১৮ এএম

নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এখন থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের বেল্ট, জুতা, মোজাসহ যাবতীয় পরিচ্ছদ স্ক্যানিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা পাচ্ছেন নতুন ইউনিফর্ম। তাদের পোশাক ও জুতার পেছনে ব্যয় হবে প্রায় ৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত রবিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়, এখন থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের শরীর তল্লাশির পাশাপাশি বেল্ট, জুতা ও মোজাসহ লাগেজ এবং শরীরে যা থাকবে তা স্ক্যান করতে হবে। তল্লাশি কার্যক্রমে কেউ কোনো ধরনের গাফিলতি করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার পর শাহজালালসহ দেশের সব কটি বিমানবন্দরেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের সবকিছুই স্ক্যানিং করে বিমানবন্দরের প্রবেশের পর উড়োজাহাজে উঠতে হবে। স্ক্যানিং অপারেটর থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্ক্যানিং ও শরীর তল্লাশির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কারচুপি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা জিরো টরারেন্স দেখাচ্ছি।’

এদিকে নতুন ইউনিফর্ম পাচ্ছে দেশের সব বিমানবন্দরে কাজ করা বেবিচকের মোট ৩ হাজার ২০০ কর্মচারী। ইউনিফর্মের পাশাপাশি উন্নতমানের জুতা ও মোজাও পাবেন তারা। ইউনিফর্মে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক) ও তাদের নাম লেখা থাকবে। ইউনিফর্ম ও জুতা তৈরির পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে নাইম হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য ভালো মানের নতুন ইউনিফর্ম ও জুতা দেওয়া হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই তারা নতুন ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।’

বেবিচকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পোশাক কেনার জন্য গত বছরের ২৫ এপ্রিল সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গরম ও শীতকালীন পোশাক দিতে প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে বলা হয়Ñ সেলাই করা সাদা টেট্রন কাপড়ের ফুল শার্ট ও হাফ শার্ট; সেলাই করা কালো ও নেভি ব্লু পলিয়েস্টার গ্যাবার্ডিন কাপড়ের ফুল প্যান্ট। এক ইঞ্চি চওড়া চামড়ার বেল্ট। পুরুষদের জন্য ট্রপিক্যাল কাপড়ের কোট-প্যান্ট এবং নারীদের জন্য ট্রপিক্যাল কাপড়ের কোট থাকলে ভালো। তবে ভালো কোম্পানির কাপড় হতে হবে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ইউনিফর্ম তৈরি শেষ হয়েছে।

বেবিচকের নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পরপর নারী নিরাপত্তারক্ষী, স্ক্যানিং অপারেটর, অ্যানাউন্সম্যানসহ সব ধরনের কর্মচারীর জন্য মানসম্মত একই রঙের ও ডিজাইনের এক জোড়া ইউনিফর্ম, এক জোড়া শাড়ি, এক জোড়া জুতা ও মোজা পাওয়ার কথা। কিন্তু তিন বছরেও তা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ইউনিফর্ম পেয়েছিলেন কর্মচারীরা।

কর্মচারীদের অভিযোগ, কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তারা পুরনো ইউনিফর্মে বা নিজেদের কেনা কাপড় পরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পুরনো ইউনিফর্ম পরলেই শরীর চুলকাত। বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়েই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দেশের বাইরে থেকে যাত্রীরা আসার পর প্রথম দেখেন এই কর্মচারীদের। এদের দেখেই বিদেশিরা দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন। এসব বিষয় চিন্তা করে আমরা উন্নতমানের ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত