দেশে আইসিইউ ও সিসিইউর সংখ্যা জানতে চায় হাইকোর্ট

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৪ এএম

দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কতটি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) রয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তার সঙ্গে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনে কী পরিমাণ অর্থ, জনবল ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হয় সেসব তথ্যও ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আদালতকে জানাতে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে রিট আবেদনকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে প্রতিবেদনও একই সময়ে দাখিল করতে হবে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. বশির আহমেদ; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

শুনানিতে আদালতের প্রশ্নের জবাবে মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৭২টি আইসিইউর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৩০টি ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ১০টি আইসিইউ আছে। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনে আদেশ চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আপত্তি জানিয়ে বলেন, আইসিইউ স্থাপনে পর্যাপ্ত জনবল ও বিশেষজ্ঞসহ অন্তত তিন থেকে চার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। এটি বাস্তবায়ন একটু কঠিন হবে।

তখন আদালত বলে, ‘দেশে চিকিৎসা সেবায় প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ডা. দেবী শেঠি আমাদের চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করেছেন। তবে সার্বিকভাবে সে অনুযায়ী দেশের চিকিৎসাসেবার দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না। চিকিৎসাসেবা যে জায়গায় আসার কথা সে জায়গায় আসছে না।’

পরে আইনজীবী বশির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আইসিইউর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছে আদালত। আদেশে হাসপাতালগুলোতে কতটি আইসিইউ ও সিসিইউ রয়েছে এবং এ ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপনে কী পরিমাণ অর্থ ও জনবল প্রয়োজনÑ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে এটি আদালতে দাখিল করতে হবে।’

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই এক আদেশে দেশের সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে ১৫ দিনের মধ্যে তা প্রদর্শন এবং বিষয়টি তদারকি করতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএসডিসি) নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুসারে এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি এবং তা বাস্তবায়নের ৬০ দিনের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দেশের সব জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে ৩০টি আইসিইউ বা সিসিইউ বেড স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনুমোদন দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।

 ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশনস) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’ অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়নে আদালতের আদেশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৪ মার্চ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে। সেটিই বুধবার আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত