রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নাটোরে বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ০৩:৫৬ এএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নাটোরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতাও রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এমনকি ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সমর্থকরাও রয়েছেন এই তালিকায়।

জেলার চার উপজেলা সিংড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও বাগাতিপাড়ায় নৌকা প্রতীক পাওয়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দানসহ সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। প্রতিমন্ত্রী পলকের সংসদীয় আসন সিংড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আদেশ আলী সরদার।

এরই মধ্যে নৌকার পক্ষে প্রচার চালানোয় আদেশ আলীর সমর্থকরা শেরকোল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল সরকারের বাম হাত ও পা ভেঙে দিয়েছে। তার বাবা আফজাল সরকার ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতারা নৌকার প্রার্থী শফিকের সঙ্গে না থেকে আদেশ আলীর পক্ষে কাজ করছেন। এক সমাবেশে শফিককে ‘বেঈমান’ ও ‘মীরজাফর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি প্রতিমন্ত্রী পলকের আস্থাভাজন ও সমর্থক হিসেবে পরিচিত। পলক এলাকায় না এলেও ফেরদৌস তার নির্দেশে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিমন্ত্রীকে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। বড়াইগ্রাম উপজেলায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর শোভাযাত্রায় হামলার প্রস্তুতির সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রচারের মাঠে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলুকে স্থানীয় নেতারা সমর্থন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার উল্লেখ করেছেন বাবলু। জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নেতাদের সতর্ক ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম। ওই উপজেলায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুসের পালিতপুত্র আনোয়ার হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। সংসদ সদস্য ও তার লোকজন আনোয়ারকে সমর্থন দিচ্ছেন। এমনকি তারা নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আনোয়ার বলেন, ‘সাধারণ ভোটারসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী আমার পক্ষে রয়েছেন। জাহিদুল তার ভরাডুবি বুঝতে পেরে মিথ্যাচার করছেন।’

বাগাতিপাড়ায় চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসের ছোট ভাই ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলাম গকুল। এখানে দলের প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মী গকুলের পক্ষে কাজ করছেন।

লালপুর উপজেলায় নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের নিকটাত্মীয়। এছাড়া সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা জাসদের আহ্বায়ক আবদুল হালিম হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষেই রয়েছেন।

এদিকে নাটোরের ছয়টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার পরিস্থিতি ব্যতিক্রম। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তুজা আলী বাবলুর উদ্যোগে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রচেষ্টায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নৌকার প্রার্থী শরিফুল ইসলাম রমজান বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান, আবদুল্লাহ আল সাকিব ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ কামরুন্নাহার কাজল মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সার্বিক অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ বাবলু। তিনি বলেন, ‘যারা নৌকার প্রতিপক্ষ হয়েছেন, তারা দলের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে সামান্য সৌজন্যবোধও দেখাননি। বিশেষ করে সিংড়া উপজেলায় জেলা কমিটির কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বৈঠক করতে গেলে তারা কেউ সাক্ষাৎ করেননি। তারা ফোন বন্ধ করে রাখায় যোগাযোগও করা যায়নি। সিংড়া উপজেলা নেতাদের অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিদ্রোহী প্রার্থীদের আচরণ সম্পর্কে কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত