নারী বিচারকদের সভায় প্রধান বিচারপতি

অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩২ এএম

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের’ ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কথা বলেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও তারা এখনো ঘরে ও ঘরের বাইরে নির্যাতিত হচ্ছে। এ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।’

দেশের সর্বোচ্চ আদালত নারী-পুরুষের সমতার নীতিকে সমর্থন করে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নারীর সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্ম ও শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

দেশে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর সাফল্য ও অগ্রগতি ইতিবাচক উল্লেখ করে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘পোশাক শিল্পে নারীদের ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত। এই শিল্প থেকে বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ অর্জিত হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নারীরা পরিবার তথা সমাজ ও জাতির মূল চালিকাশক্তি। তাই আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে নারী বিচারকদের আন্তরিক হতে হবে। সহস্রাব্দের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদেরকে সততা, পরিশীলতা ও সমুন্নত করে তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে মোট বিচারকের শতকরা প্রায় সাড়ে ২৭ ভাগ নারী বিচারক। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও উৎসাহমূলক। এ সংখ্যা ইউরোপ-আমেরিকাসহ আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি।’ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানজীনা ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা, হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, বিচারপতি ফাতেমা নজিব প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত