চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ২০ ফেব্রুয়ারির অগ্নিকান্ডে ৭১ জন প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত সরকারের তদন্ত কমিটিগুলো এ জন্য রাসায়নিককে দায়ী করেছে। তারপর থেকেই পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক সরানোর নির্দেশ দিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টাস্কফোর্সের পাঁচটি দল। রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের নেতা, দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর রাসায়নিক ব্যবসা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক সরানো, এ ব্যবসার চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মামুন আব্দুল্লাহ
সরকার রাসায়নিক সরানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান কী?
চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু এরপর এখন যেভাবে এ ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এভাবে নিলে হবে না। বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ টিম রয়েছে- সেই টিমের প্রতিবেদন অনুসারে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে এই বিশেষজ্ঞ টিমের সঙ্গে আরও কিছু সংস্থাকে যোগ করতে হবে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ে এই কমিটি করতে হবে।
না সরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা থেকে নগরবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যাবে?
আশপাশের দেশগুলোতে কি হয়, সেটা দেখতে হবে। তারা কীভাবে এই ব্যবসা তুলনামূলক নিরাপদ করতে পেরেছে, সেটাও দেখতে হবে। তারা কীভাবে ব্যবসা করছে, সেভাবে আমাদেরও করতে হবে। যেন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রন্ত না হয়, এটাই এখন আমাদের দাবি।
এ ক্ষেত্রে আপনাদের প্রস্তাব কী?
সরকারও বলছে, ২৯টি পণ্য অতিদাহ্য। এটা আন্তর্জাাতিকভাবেও স্বীকৃত। বাংলাদেশে ভালোভাবে খুঁজলে হয়তো আরও দু-একটা অতিদাহ্য পণ্য বের হতে পারে। এখন এই সব অতিদাহ্য পদার্থগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। একবারে সব রিলোকেট (স্থানান্তর) করার সিদ্ধান্ত নিলে তো হবে না। হুটহাট যদি বলে, সব সরিয়ে নিতে হবে- সেটা তো সম্ভব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসাবান্ধব। আমাদের সরে যেতে বললে যাব। কিন্তু সেটা যেন ব্যবসায়ীদের পথে না বসিয়ে দেয়।
সরকার কোথায় নিতে চায় আর আপনারা কী চান?
সরকার কেরানীগঞ্জের একটি জায়গায় এটি স্থানান্তরের কথা বলছে। আমাদের প্রস্তাব হলো- যেখানে বিসিক শিল্পনগরী আছে, সেখানকার খালি জায়গায় এ ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। বিসিকের পাশে পরিকল্পিতভাবে একটা ছোট নগরী গড়ে তোলা যেতে পারে। যেন ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো ব্যবসাটা করতে পারে। এমনভাবে এই শিল্প নগরী গড়তে হবে, নারকোটিস (মাদক) অধিদপ্তরের পরামর্শ নিতে হবে, যাতে আবার যেন আগুন না লাগে। শিল্প নগরীতেও যদি আগুন লাগে, তাহলে তো হবে না। কাজেই সেভাবেই নকশা প্রণয়ন করে সে অনুসারে কাজ করতে হবে।
কতজন রাসায়নিক ব্যবসায়ী আছেন পুরান ঢাকায়?
সমিতির অধীনে ব্যবসায়ী আছেন ৮ শতাধিক। কিন্তু পূরান ঢাকায় সব মিলিয়ে আড়াই হাজারের মতো রাসায়নিক ব্যবসায়ী আছেন। বাংলাদেশে ব্যবসার আকারের দিক দিয়ে রাসায়নিক এখন তিন নম্বর খাত বলা যেতে পারে। এর বার্ষিক টার্নওভার ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বেশ কিছু ব্যবসায়ীর বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এখন কী অবস্থা?
বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাটা এক ধরনের গুজব। কয়েকটির কেটেছে, তাও আবার অন্য কারণে। ব্যাপক হারে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচার একধরনের বাড়াবাড়ি। পিউর (আসল) রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের কোনো সংযোগ কাটেনি। কাটছে চপল ও প্লাস্টিক-জাতীয় পণ্য বিক্রি করে এমন ব্যবসায়ীদের।
রাসায়নিক সরানোর বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
আমরা ২৯টি রাসায়নিক সরিয়ে নেব। আরও যদি কিছু থাকে, এগুলোকে কিছু দিন সময় দিতে হবে। নগরীর একটি জায়গা এখন বিপজ্জনক। বেশি চাপ দিলে এগুলো শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছাড়িয়ে পড়বে। তখন সমস্ত শহরকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। যেটা উচিত হবে না। বিশেষজ্ঞ টিমের পরামর্শ অনুসারে আমরা কাজ করব। সরকারের যেসব কর্মকর্তা, আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তারাও তো জানেন না কী করতে হবে। এ জন্য আমাদের কথা হলো একটি বিশেষঞ্জ টিম করা হোক। সেই টিম যে সাজেশন দেবে, আমরা সেটাই মেনে নেব। যদি তারা চলে যেতে বলে- যাব, কিন্তু তার জন্যও একটা পরিকল্পনা জরুরি।
