মধ্যরাতের ভোট থেকে বেরোতে পারেনি ঢাবিও : রিজভী

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ০৫:১৭ এএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষও বের হতে পারেনি। আজ ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হলো। গত রাতেও (রবিবার) ব্যালট বাক্স ভরানো হয়েছে, যার প্রমাণ পাওয়া গেল আজ কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট।’ গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘ডাকসু একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি থেকে আমাদের ভাষা, স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ সকল অধিকার আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের ভোটের স্মৃতি ডাকসু নির্বাচনেও সাধারণ ছাত্রদের তাড়িত করেছে। এ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের ন্যায্য অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নাৎসিবাদী গণতন্ত্রের নানারূপ এ ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিফলিত হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন যা ডাকসুর ইতিহাসে নজিরবিহীন।  ছাত্রলীগের ভয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এ রকম বেশ কিছু প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিরোধী মতের শিক্ষকদের ডাকসু নির্বাচনে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীসহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা যাতে ভোট দিতে না পারেন সে জন্য পুলিশ অবিশ্বাস্য রকমের তৎপর ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের যাবতীয় আয়োজন ছাত্রলীগকে অবৈধপন্থায় বিজয়ী করার অনুকূলে ছিল।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘ঢাবির ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে ১৮টি হলে। সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোটের জন্য একাধিক দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব দাবি নাকচ করেছিলেন। সংবাদ সংগ্রহে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ, তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই তা হলো নির্বাচনের দিন সব ধরনের অনিয়মের প্রমাণ না রাখা।’

খালেদা জিয়াকে সানগ্লাস পরা দেখলে মনে হয় না তিনি অসুস্থ তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রজ্ঞা ও জাজমেন্টের প্রশংসা করি এজন্য যে, তার দলেরই একজন নেতা ও মন্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বের সেরা বেয়াদব। এমন কোনো কি ব্যক্তি আছেন যাদের চোখে অপারেশন হওয়ার পর সানগ্লাস পরেন না। তথ্যমন্ত্রীর এমন কথা শুনলে মনে হয় মন্ত্রিত্ব রক্ষার গ্যারান্টির জন্যই আগের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর চেয়ে এক ধাপ ওপরে থাকতে চাচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা ও দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনীর হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত