পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অভিযান পরিচালনাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ট্রলারে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে অর্ধশতাধিক দুর্বৃত্ত। এতে ইউএনওসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সরকার বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইউএনও পিজুস চন্দ্র দের নেতৃত্বে ১১জনের একটি দল ট্রলারে করে বাউফল উপজেলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকাবিরোধী অভিযানে নামেন।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরওয়াডেলে এলাকার শেষ মাথা খানকা পয়েন্টে পৌঁছালে তারা জেলেদের অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেখতে পান।
জেলেরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা ও জাল ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও বাঁধা জাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে সংঘবদ্ধ হয়ে জেলেদের ৫০-৬০ জনের একটি দল অতর্কিতে লাঠিসোঁট নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই ট্রলারের ওপর হামলা চালায় এবং বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
এতে ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে, ভূমি কার্যালয়ের জারিকারক মো. আশরাফ ও ইউএনওর কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. আবদুল্লাহসহ ১১ আহত হন।
জীবন বাঁচাতে ইউএনওর সঙ্গে থাকা পুলিশ ফাঁকা গুলি করে নিজেদের রক্ষা করে। গুরুতর আহত আশরাফ ও আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তর তেঁতুলিয়া নদীকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এ কারণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।’
ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হঠাৎ আক্রমণে খুবই ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় রক্ষা পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’
