১৯৮৪ সালে অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়া মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম ২০১০ সালে যখন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে পদোন্নতি পান, তখন তার অন্তরে ঘণ্টা বাজাতে থাকে বাংলাদেশের জন্মকথা। বাঙালির বঞ্চনার দৃশ্যপট ভেসে ওঠে চোখের সামনে। মনের অগোচরেই ভাবতে থাকেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন না হলে পাকিস্তান আমলের হাবিব ব্যাংকে চাকরি হয়তো পেতেন, কিন্তু জিএম হিসেবে পদোন্নতির কথা কল্পনাও করতে পারতেন না তিনি। সেই ভাবনা থেকেই বঙ্গবন্ধুকে অন্তরে ধারণ করা শামস্-উল ইসলাম কোনো রকম পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়াই মৌলভীবাজারে অগ্রণী ব্যাংকের জোনাল অফিসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়লেন বঙ্গবন্ধু কর্নার। ৯ বছর আগের জিএম মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম এখন অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। নিজের কর্মপরিসর যতটা বেড়েছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আয়োজনও তত বড় করেছেন।
শামস্-উল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিএম হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর বারবার এই ভাবনা উদয় হচ্ছিল যে, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন না করলে কোনো সরকারি ব্যাংকে কোনো বাঙালি জিএম হিসেবে পদোন্নতি পেত না, আমি তো নই-ই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরকম ভাবনার মধ্যেই একদিন মৌলভীবাজার জোনাল অফিসে গিয়ে দেখি, অফিসের ভেতরে কিছু খালি জায়গা রয়েছে। তখনই আমি নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে সেলফ কেনার ব্যবস্থা করলাম। বাংলা একাডেমি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত বিভিন্ন বই কেনার ব্যবস্থা করলাম।’ ২০১৫ সালে এমডি হিসেবে পদোন্নতির পরও একই ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে শামস্-উল ইসলামের মাথায়। আনসার-ভিডিপি ব্যাংকে যোগদান করে মনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের চিন্তা নিয়ে পুরো অফিসটা ঘুরে দেখেন। চেয়ারম্যানের রুম ও বোর্ড মিটিং রুমের মাঝে বিস্তুর খালি জায়গা দেখে সেখানে বঙ্গবন্ধু কর্নার গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণ করেননি তিনি।
ব্যাংকের সবাই এ উদ্যোগের প্রশংসা করতে লাগলেন। বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করেন তিনি।
আনসার-ভিডিপি ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করলেও মনে তৃপ্তি খুঁজে পাননি ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে অগ্রণী ব্যাংকে এমডি হিসেবে যোগ দেওয়া শামস্-উল ইসলাম। কারণ, মনের মতো করে বড় পরিসরে কর্নার করতে পারেননি তিনি। ‘এই ব্যাংকে আসার পর ভাবলাম ভারী ধাতু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করব। করলামও তাই। ১১৭ কেজি ওজনের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য বানানো হলো প্রধান কার্যালয়ের সাত তলায়।
৯ বছর আগে শুরু করা মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলামের বঙ্গবন্ধু কর্নার এখন শোভা পাচ্ছে দেশের লাইব্রেরিগুলোতে। সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে একটি করে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করতে। এতে আনন্দিত অগ্রণী ব্যাংক এমডি বলেন, আমার লক্ষ্য হলো, যেসব জায়গায় অগ্রণী ব্যাংকের নিজস্ব স্থায়ী অফিস রয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিতেই বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা। প্রায় ১৩-১৪টি এ ধরনের অফিস রয়েছে আমাদের। এছাড়া, অগ্রণী ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর প্রায় সবই স্থায়ী অফিস হিসেবে গড়ে উঠছে। সেগুলোতেও বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হবে।
