শহর এলাকায় ১ হাজার স্কয়ার ফুট কিংবা এর চেয়ে ছোট জায়গায় দুই বেডের অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির কনসেপ্ট নিয়ে এগোতে আবাসন ব্যবসায়ীদের তাগিদ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে, সেভাবে অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলা ছাড়া উপায় দেখছি না। আবাসন ব্যবসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘অ্যাফোর্ডেবল’ হাউজিং। ক্রেতার কাছে কম দামে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া। এ জন্য ‘লেস প্রফিট, মোর ভলিউম’ নীতি অনুসরণ করা যায়। তবেই আবাসন ব্যবসায় গতি আসবে।’
বৃহস্পতিবার নগরের রেডিসন ব্লু চিটাগাং বে ভিউতে চার দিনব্যাপী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবাসন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আবাসন ব্যবসার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু হঠাৎ করে একটা পর্যায়ে এসে আবাসন ব্যবসা চ্যালেঞ্জর মুখে পড়েছে। তবে মনে হচ্ছে, আবাসন ব্যবসার মেঘ সরছে। এ ব্যবসার একটা ভালো ভবিষ্যৎ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলেন ভূমির উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং করা সম্ভব হচ্ছে না। সিঙ্গাপুর, টোকিও, হংকংকেও কিন্তু একই অবস্থা। জমির দাম নাগালের বাইরে। তবে তারা বসে নেই। তারা মাইক্রো হাউজিং, মাইক্রো অ্যাপার্টমেন্ট চালু করে আবাসন ব্যবসাকে জমজমাট রেখেছে।’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন লোক তার সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে প্লট কিংবা ফ্ল্যাট ক্রয়ের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু কিনতে গিয়ে যখন প্রতারণার শিকার হন- তখন আবাসন ব্যবসার জন্য এটা মঙ্গল বয়ে আনে না। প্রত্যেক ব্যবসায় ভালো-মন্দ লোক আছে। একটা ব্যবসায় সব লোক ভালো হবে- এমনটা আশা করাও যায় না। গুটি কয়েক মন্দ লোকের কারণে আবাসন ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই এসব ফ্রডদের ধরতে হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতারণা ঠেকাতে রিহ্যাব একটি মনিটরিং টিম গঠন করতে পারে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা দরকার।
জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল- এমডিজি বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে পূরণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল- এসডিজি পূরণে কাজ চলছে। আবাসন খাত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আশা করি, সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আবাসন খাত সামনের দিকে শক্ত অবস্থান নিয়ে এগোবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বিগত ১০ বছর দেশে প্রচুর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আল আমিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান কামাল মাহমুদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী।
