চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি ফায়ার সার্ভিসের তদন্তেও আগুনের কারণ রাসায়নিক

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০৪:০৭ এএম

পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কারণ হিসেবে রাসায়নিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রতিবেদনেও অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে রাসায়নিকের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হবে আগামী রবিবার।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক ও তদন্ত কমিটির প্রধান দেবাশীষ বর্মণ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব ভবন ও মার্কেটের তালিকা করে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মোট হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে গতকাল জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় রাসায়নিক থাকার তথ্যই পাওয়া গেছে।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার রাসায়নিক থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। কারণ চুড়িহাট্টা মোড়ে কোনো বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের আলামত কিংবা বিস্ফোরিত পিকআপ ভ্যানের আলামত পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মোট ৩১টি সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা বলেছে। এতে বলা হয়, ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি ক্যান, লাইটার রিফিল করার ক্যান, কাস্টার অয়েলের ছোট কাচের বোতল ও টিনের ক্যান, নেইল পলিশের বোতল, ছোট ও বড় বাল্বের গুদাম ছিল। দোতলায় কয়েক বস্তা ভস্মীভূত রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিক থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়াহেদ ম্যানশনের বেইজমেন্টে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকের মজুদ পাওয়া গেছে। কমিটি পুরো পর্যালোচনায় একমত হয়েছে যে, আগুনের সূত্রপাত ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার রাসায়নিক গুদাম থেকেই হয়েছিল। চুড়িহাট্টার রাজমহল হোটেলের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনাস্থলের পাশের শেখ হায়দার বক্স লেনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেছে তদন্ত কমিটি। এতে দেখা যায়, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের পর কারণ অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, ঢাকা জেলা প্রশাসন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মামলায় ২০ কোটি টাকা ক্ষতির উল্লেখ : অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত জুম্মনের (৫২) ছেলে আসিফ চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন। সেখানে তিনি ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক দুই ভাই হাসান (৫০) ও সোহেল ওরফে শহীদের (৪৫) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করেছেন। ঘটনার সময় বিভিন্ন মার্কেট, ভবন এবং রাস্তায় চলাচলরত যানবাহন আগুনে পুড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত