ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে খ্রিস্টান উগ্রবাদী হামলার পর সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য সবার নজর কাড়েন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। পশ্চিমা নেতাদের থেকে তার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা এটি বুঝে যান সবাই। তারুণ্যদীপ্ত, দূরদর্শী এবং অদম্য উদারতার প্রতীক জাসিন্ডা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তার বর্ণবাদবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি, শরণার্থী ও পরিবেশবান্ধব অবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজেকে আরও জোরালো করেছেন বিশ্বদরবারে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রূপে-গুণে অনন্য এই নারী। জাসিন্ডা আরডার্নকে নিয়ে লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ
দৃঢ় ও সাহসী ব্যক্তিত্ব
মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি তাদের প্রকাশিত প্রভাবশালী চিন্তাবিদদের তালিকায় তরুণদের মধ্যে (অনূর্ধ্ব ৪০ বছরের চিন্তাবিদ) শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলোচিত ছিলেন তিনি।
জাসিন্ডার জনপন্থি নীতি ও পরিকল্পনা, উদার ও বর্ণবাদবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি, শরণার্থী ও পরিবেশবান্ধব অবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজেকে আলোচনায় এনেছেন। নিউজিল্যান্ডে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়, যা সামুদ্রিক প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের জন্য আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় ও দূষণ কমিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে ধাপে ধাপে সব ধরনের প্লাস্টিক ব্যাগমুক্ত করার হবে নিউজিল্যান্ডকে। জাসিন্ডার এই পদক্ষেপকেও স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তিনি নিজেকে দাবি করেন ‘সমাজবাদী গণতন্ত্রী’, প্রগতিশীল ও নারীবাদী হিসেবেও।
দেশটিতে বাস্তুহারা ও শিশু-দারিদ্র্য মোকাবিলায় জাসিন্ডার অঙ্গীকারের পর অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে সেখানে। ২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্রতায় বসবাস করা শিশুর হার ৪১ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে পারিবারিক কর প্যাকেজ ব্যবস্থা চালু করেন জাসিন্ডা। এ ছাড়া নতুন একটি শিশু দারিদ্র্যদূরীকরণ আইনও তৈরি করেন। বর্তমান প্রজন্মের জলবায়ু পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ব্যবস্থাও নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে তিনি নতুন করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষী মনোভাব ও বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে এরই মধ্যে সারা বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। আর তার এই জোরালো মনোভাবের কারণে তাকে ‘এন্টি-ট্রাম্প’ খেতাবে ভূষিত করেছে বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ। পাশাপাশি তাকে বর্ণনা করা হয়েছে দৃঢ় ও সাহসী ব্যক্তিত্ব হিসেবে।
বিরোধী দলের নেত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী
নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওই বছরের ১ আগস্ট দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতৃত্বের আসনে বসেন জাসিন্ডা আরডার্ন। তার আগে এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন অ্যান্ড্রু লিটল। তা ছাড়া হেলেন ক্লার্কের পর তিনিই ছিলেন ওই দলের দ্বিতীয় নারীনেত্রী।
জাসিন্ডার নেতৃত্ব গ্রহণের পরই নির্বাচন-পূর্ববর্তী জরিপগুলোতেও অভাবনীয় সাফল্য দেখাতে শুরু করে লেবার পার্টি। আগস্টের শেষের ‘কোলমার বার্টন’ জরিপে লেবার পার্টির সমর্থন গিয়ে দাঁড়ায় ৪৩ শতাংশে। অথচ অ্যান্ড্রু লিটল যখন নেতৃত্বে ছিলেন, তখন একই জরিপে লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন ছিল মাত্র ২২ শতাংশ।
নির্বাচনে জাসিন্ডার নেতৃত্বে লেবার পার্টি পূর্ববর্তী জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে ১৪ সিট বেশি জিতে। তবে, ৪৬ আসন পাওয়া লেবাররা নির্বাচনী ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া ন্যাশনাল পার্টি আসন জিতেছিল ৫৬টি। এ ক্ষেত্রে ৯টি আসন পাওয়া ‘নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি’ এবং আটটি আসন পাওয়া গ্রিন পার্টির সঙ্গে কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি। আর প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন জাসিন্ডা আরডার্ন। ১৮৫৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী তিনি। তার বয়স ছিল তখন মাত্র ৩৭ বছর।
‘ইতিবাচক প্রচারণা’র নীতি
নেতৃত্ব গ্রহণের পরই আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার কাজে নেমে পড়েন জাসিন্ডা আরডার্ন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘ইতিবাচক প্রচারণা’র নীতি ঘোষণা করেন। ব্যাপারটা হলো বিরোধী শিবির নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রচারণা নয়, বরং নিজেরা দেশ গঠনে কী কী ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা।
জাসিন্ডার এই ইতিবাচক মনোভব দারুণ সাড়া ফেলেছিল তার দল এবং জনগণের মধ্যে। ফলে নির্বাচনী তহবিলে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। পার্টির তহবিলে জমা হতে থাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
জানা যায়, জাসিন্ডা দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত গড়ে প্রতি মিনিটে ৭০০ কিউই ডলার জমা হতে থাকে ওই তহবিলে। তা ছাড়া দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমও জাসিন্ডাকে নিয়ে পজিটিভ কাভারেজ দিতে শুরু করে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনবিষয়ক নিউজ কাভারেজে ‘জাসিন্ডা ইফেক্ট’ ও ‘জাসিন্ডাম্যানিয়া’ নামে দুটি টার্মও নিয়ে আসে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও সফর
গর্ভকালীন সময়ে একজন নারীকে শারীরিক-মানসিকসহ প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করতে হয়। চাকরিজীবী বা গৃহিণী সব নারীরই এ সময়টায় বেশি বিশ্রাম প্রয়োজন। একটি রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হয়ে তিনি কীভাবেই-বা দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম নেবেন? শারীরিক অবয়ব পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ সময়টাতে বাড়ে শারীরিক কষ্টও। তবে কষ্ট হলেও তা মানিয়ে নিয়ে গর্ভবতী অবস্থাতেও পুরোদমে রাষ্ট্রীয় কাজ করে যাচ্ছেন জাসিন্ডা। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে ইউরোপও গিয়েছেন তিনি। সফরে ফ্রান্স এবং বার্লিন ঘুরে লন্ডনে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুরুর দিনগুলোতে সকালের দিকে বেশ অসুস্থ বোধ করতাম। তখন ব্যাপারটা কেউই জানত না। এখন পায়ে ব্যথা একটু বেড়েছে। তবে তা কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে না।’ পায়ে ব্যথার জন্য প্যারিসে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় জুতো না পরে শুধু মোজা পরে ছিলেন কিউই প্রধানমন্ত্রী। তার জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। মাত্র ছয় সপ্তাহ তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়েছিলেন। এরপর আবার ফিরে গেছেন তার ব্যস্ত জীবনে।
প্রধানমন্ত্রী যখন মা
কথায় বলে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। এই বাংলা প্রবাদবাক্যটির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের বিরাট দায়িত্ব ও সংসার দুটিই সামলেছেন নিপুণ হাতে। কোথাও কোনো গাফিলতি রয়েছে বলে শোনা যায়নি। কর্মরত মা হিসেবেও রীতিমতো দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। তিন মাসবয়সী মেয়ে নেভ তে আরোহাকে নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন জাসিন্ডা আরডার্ন। ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলা পিস সামিটে ভাষণ দেন জেসিন্ডা। এ সময় অধিবেশন হলে দেখা যায় মেয়ে নেভেকে চুমু খাচ্ছেন এবং ওপর-নিচে ওঠাচ্ছেন-নামাচ্ছেন, আদর করছেন। অধিবেশনের বাকি সময় নেভকে কোলে নিয়ে বসে থাকেন তার বাবা ক্লার্ক গেফোর্ড। তাদের সন্তানই নিউজিল্যান্ডের প্রথম কোনো শিশু যে, এমন একটি অধিবেশনে যোগ দিয়েছে।
নেভ এখনো মায়ের বুকের দুধ পান করে। তাই ছয় দিনের নিউ ইয়র্ক সফরে তাকে সঙ্গে নিয়েছেন জেসিন্ডা। আর নেভের দেখাশোনার জন্য সঙ্গে নিয়েছেন জেন্ডিসার স্বামী ক্লার্ককে। এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডে বেশির ভাগ সময় নেভ আমার সঙ্গে থাকে।’
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানে ডুজারিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন দেখিয়েছেন, কর্মজীবী মায়ের চেয়ে আর কেউ নিজের দেশকে এত ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।’
জেসিন্ডা দ্বিতীয় সরকারপ্রধান, যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মা হয়েছেন। গত ২০১৮ সালের ২১ জুন তিনি নেভ তে আরোহাকে জন্ম দেন। এর আগে ১৯৯০ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রথম মা হয়েছিলেন পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টো।
ইতিহাসের কালো দিন
শুক্রবার (১৫ মার্চ)। শান্ত, সুন্দর ও রৌদ্রোজ্জ্বল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহর। এ শহরটিই হয়ে যায় সব থেকে ভীতিকর এক শহর। দেশটির স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ঠা-া মাথায় হামলা চালানো হয় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে। এতে নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। রক্তাক্ত এই দিনটিকে ইতিহাসে অন্যতম কালো দিন বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। এই হামলা নজিরবিহীন সহিংস কর্মকাণ্ড। এ ঘটনার পর সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন জাসিন্ডা আরডার্ন। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে যার যার বাসায় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল। এ ছাড়া, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই কোনো মসজিদে কেউ না যায়, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চ শহরটি পরিণত হয়েছে যেন এক ভুতুড়ে নগরীতে।
যে প্রধানমন্ত্রী ছুঁয়েছে সবার মন
দুটি মসজিদে চালানো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় স্তব্ধ সারা বিশ্ব। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপ্রিয় দেশে এমন সাম্প্রদায়িক আক্রমণ অকল্পনীয়। পুরো নিউজিল্যান্ডকে নাড়িয়ে দিয়েছে এমন ন্যক্কারজনক হামলা। এ ঘটনার পর অস্ত্র আইন পরিবর্তনেরও ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
দেশটির এমন পরিস্থিতিতে জাসিন্ডাকে দেখা গেছে এক অনন্য ভূমিকায়। বারবার হাজির হয়েছেন গণমাধ্যমের সামনে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেওয়াÑ সবখানেই নিজে যাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পরম মমতায় তাদের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় এই প্রধানমন্ত্রীকে। মসজিদে হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের প্রতি শোক প্রকাশে শুধু কালো পোশাকই পরেননি, একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না পরিধান করেছেন এই নারী প্রধানমন্ত্রী। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এমনই কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।
এক ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘নিহত ব্যক্তির মধ্যে প্রায় সবাই ছিলেন অভিবাসী। যারা একটু শান্তির জন্য, নিরাপত্তার জন্য এখানে বসবাস করতে এসেছিলেন। যারা নিহত হয়েছেন, অভিবাসী, শরণার্থীসহ হামলার শিকার হওয়া সবাই নিউজিল্যান্ডের অংশ।’
অন্য দেশের সন্ত্রাসী ঘটনায় হামলাকারীদের নিহত হতে দেখা গেলেও নিউজিল্যান্ডে তা হয়নি। সেখানে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ বিষয়টিও প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী।
জনপ্রিয়তা
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশি জনপ্রিয় জাসিন্ডা আরডার্ন। তার মাধ্যমেই তরুণসমাজ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। শিক্ষা, বুদ্ধি, প্রযুক্তি, যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভাবনায়Ñ সবদিক দিয়ে তিনি কারও থেকে কম নন। হাসিখুশি এই প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে মেশেন, ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় সেলফির কারণে। তিনি সেলফি তুলতেও খুব ভালোবাসেন। ফেইসবুকেও তিনি খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের পাশাপাশি খুব সাধারণ মানুষের মতোই ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ছবি শেয়ার দেন। বাদ যায় না তার শিশুকে বিটরুট খাওয়ানোর ছবিও। তবে শুধু তরুণ না, সমাজের সিনিয়র সিটিজেনদের মনেও তার জন্য জায়গা রয়েছে। পরিবেশ সংস্কারসহ নানামুখী পদক্ষেপ তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেছে।
অসম্ভব বলে কিছু নেই
জাসিন্ডা একজন বলিষ্ঠ নারীবাদী ও সামাজিক, প্রগতিশীল। তার মতে, নারীদের সব অলসতা, জড়তা ভাঙতে হবে, তবেই নারী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। জাসিন্ডা মনে করেন নারীদের কাছে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। নিউজিল্যান্ডে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। দেশটির আইনে এটিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় (বিশেষ কারণ ছাড়া)। তবে গর্ভপাতকে বৈধতা দিতে চান নিউজিল্যান্ডের এ সাহসী প্রধানমন্ত্রী। নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটনে ১৯৮০ সালের ২৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা রস আরডার্ন ছিলেন পুলিশ অফিসার। তার মায়ের নাম লরিয়েল আরডার্ন। তিনি রাজনীতিতে আসেন তার ফুফু মারি আরডার্নের হাত ধরে। যিনি ছিলেন লেবার পার্টির সদস্য। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণ কাজে সাহায্য করতে কিশোরী জাসিন্ডাকে সঙ্গে নিয়ে নিয়েছিলেন তার ফুফু। তারপর জাসিন্ডা দলের ইয়ং লেবার সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য হয়ে ওঠেন।
২০০১ সালে নিউজিল্যান্ডের ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন জাসিন্ডা। তারপর তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রিসার্চার
হিসেবে। তখন ক্ষমতায় ছিলেন দেশটির ৩৭তম প্রেসিডেন্ট হেলেন ক্লার্ক। পরে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের পলিসি অ্যাডভাইজর হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে এমপি হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। তারপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। তিনিই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রধানমন্ত্রী যিনি এ বয়সে এই পদে রয়েছেন।
