ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদুল্লাহ হলের সামনের রাস্তায় ছুরিকাঘাতে কিশোর আরিফ (১৫) খুনের ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং। গ্রেপ্তার পাঁচ কিশোরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই গ্যাংয়ের নাম ‘মাফিয়া’ বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার গ্রেপ্তার কিশোররা ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাদের গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। গ্রেপ্তার কিশোররা হলো হৃদয়, রাকিব, ফাহিম ওরফে মাইকেল, আশিক ও শান্ত। তাদের সবার বয়স ১৮-এর নিচে এবং সবাই গত শুক্রবারের ওই খুনের ঘটনায় জড়িত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি সেখানকার একজন শরবত বিক্রেতা দেখেছিলেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কিশোর গ্যাংয়ের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানতে পারি, তাদের গ্যাংয়ের নাম ‘মাফিয়া’। এর সদস্য হিসেবে ১০-১২ জনের নাম পাওয়া গেছে। এদের চলাফেরা বেপরোয়া। পুরান ঢাকার চকবাজার, নিমতলী, হোসেনী দালান ও বংশাল এলাকায় বসবাস এদের। এই কিশোর দলের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের। কারও বাবা রিকশা চালায়, কারও বাবা ফুটপাতের দোকানের কর্মচারী, আবার কারও মা অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালান। এই কিশোর দল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী, রমনাসহ বিভিন্ন পার্কে নিয়মিত ছিনতাই করে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিশোর আরিফ খুনের সময় এই মাফিয়া গ্যাং দলের আট সদস্য উপস্থিত ছিল। তাদের একজন পথচারী আরিফকে ল্যাং মারলে সে গালমন্দ শুরু করে। এতে মাইকেলের অহমিকায় আঘাত লাগলে সে ছুরিকাঘাত করে বলে আদালতের কাছে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া রাসেল নামে আরেক কিশোর তাকে ছুরি চালাতে সহায়তা করেছে।’ মঞ্জুর হোসেন বলেন, রাসেলসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার বিকেলে শহীদুল্লাহ হলের সামনের রাস্তায় কিশোর আরিফ ছুরিকাঘাতের শিকার হয়। ওইদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ ঘটনায় আরিফের ভাই আওলাদ হোসেন শাহবাগ থানায় মামলা করেন। নাজিম উদ্দিন রোডের জুতা কারখানার শ্রমিক আওলাদ বলেন, তার ভাই ঘটনার দুদিন আগে গ্রামের বাড়ি থেকে তার কাছে এসেছিল। জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ক্রিকেট খেলে বাসায় ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হয় সে।
এসআই মঞ্জুর বলেন, আরিফ খুন হওয়ার পর থেকেই ঘটনাস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাবির দোয়েল চত্বর এলাকা থেকে প্রথমে চারজন, পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী রাতে প্রধান অভিযুক্ত মাইকেলকে বংশাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
