চট্টগ্রামের ৫ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নগণ্য

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০১:৩৫ এএম

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সোমবার ভোট হয়েছে চট্টগ্রামের ৫ উপজেলায়। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে কিছুটা নির্বাচনী আমেজ থাকলেও বাকি উপজেলাগুলোতে ভোটারদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। বেশিরভাগ কেন্দ্রই ফাঁকা এবং ভোটারের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।

ফটিকছড়ি ছাড়াও সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হয়।

তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রাম উত্তরের সাত উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিরসরাই ও রাউজানে তিন পদেই (চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোট হয় পাঁচ উপজেলায়। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে শুধু চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়। অন্য চার উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি এম এ কোরেশী শেলু জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার চন্দ্রঘোনা হাইস্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটি ভোটার শূন্য, শুধু দায়িত্বরত কর্মকর্তা রয়েছেন। উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহ পাড়া কেন্দ্রে গিয়েও ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এ উপজেলার ৮৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

এদিকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে গতকাল বেলা ১২টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আকতার হোসেন (মোমবাতি)। তিনি দেশ রূপান্তর বলেন,‘ভোটে কারচুপি করার জন্য কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি সাইফুর রহমান সোহান জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালঘাটা এমআরসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারের কোনো লাইন নেই। কেন্দ্রটি প্রায় ভোটার শূন্য। এ কেন্দ্রের ২ হাজার ৩২১ ভোটারের মধ্যে পড়েছে মাত্র ৮০ ভোট। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও ভোটার নেই বললেই চলে।

এ উপজেলার ভোটগ্রহণ হয় ১৩৬টি কেন্দ্রে।

এদিকে বেলা ১২টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়ব (আনারস প্রতীক) লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করেছে। এসময় আলাউদ্দীন ও নাছির নামে আমার দুই সমর্থক আহত হয়েছে।’

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটার শূন্য কেন্দ্রে অলস সময় পার করছেন ভোটগ্রহণে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। সীতাকুণ্ড গার্লস স্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা লুৎফুন নেছা বলেন,‘ভোটার উপস্থিতি কম।’বেশিরভাগ কেন্দ্রে তখন পর্যন্ত ৫০-১০০টি ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। বেশিরভাগ কেন্দ্রে দুজনের বেশি এজেন্টও পাওয়া যায়নি। 

একাধিক কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইউনুস ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুন নাহার নিলু। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মিল্টন রায় জানান, তাদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

হাটহাজারীর প্রতিনিধি কেশব বড়ুয়া জানিয়েছেন, ফরহাদাবাদ, ধলই, মির্জাপুর, গুমানমর্দ্দন এবং হাটহাজারী পৌর এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আড়াই ঘণ্টায় ৮৪টি ভোট পড়েছে। সকাল সোয়া ১১টার দিকে ফরহাদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একটি বুথে মাত্র ৫টি ভোট পড়েছে। উত্তর ছাদেক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, ওই কেন্দ্রে ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বেলা ১২টার দিকে মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত