প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত দেশে অপরাজনীতি করেছে এবং সেই কারণে দেশের মানুষের কাছে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মনোনয়ন-বাণিজ্যের কারণে গত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। সেই নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ২৮টি সিট পায়। আওয়ামী লীগ সেখানে এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের প্রস্তুতির অভাব ছিল।’ এ ছাড়া যারা ৩০০ আসনের জন্য ৭০০ জনকে মনোনয়ন দেয়, তারা কীভাবে ভোট পাবেÑ সেই প্রশ্নও তোলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি সব জরিপে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে, সেটা বোঝা যাচ্ছিল।’ গত ১০ বছরে অভূতপূর্ব যে উন্নয়ন করেছেন, সে কারণেই জনগণ তাদের টানা তৃতীয়বারের মতো বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর আইয়ুব খানের পদ্ধতি অনুসরণ করা হলো। মোশতাক বেইমানি করল। মাত্র আড়াই মাসেই তার পতন ঘটল। অবৈধভাবে ক্ষমতায় এলো জিয়াউর রহমান। তার বহুদলীয় গণতন্ত্র একটি ভাওতাবাজি। যেখানে কথা বলার অধিকার নেই, মতপ্রকাশের অধিকার নেই সেটা আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র হয় কীভাবে! অথচ কিছু জ্ঞানী-গুণী তাকেই বাহবা দিতে শুরু করল।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করব। ২০২০ থেকে ২১ সাল মুজিব বর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। আমি চাই, সারা বাংলাদেশে প্রত্যেক এলাকায় এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু হোক। যিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, সেই জনকের আদর্শ সমুন্নত রেখে আমরা তার স্বপ্ন পূরণ করব।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সভায় বক্তৃতা করেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ফজিলাতুননেসা ইন্দিরা, ত্রাণ এবং কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বক্তৃতা করেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
