ফেসিয়াল রিকগনিশন: নিরাপত্তা নাকি হুমকি?

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম

প্রযুক্তি উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে ফেসিয়াল রিকগনিশনের (চেহারা দেখে শনাক্ত)। প্রথম দিকে এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহপ্রবণতা কাজ করলেও এখন অপরিহার্য হয়ে উঠছে চেহারা দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এ মাধ্যমটি।

আইফোন লকড হয়ে গেলে, এর থেকে মুক্তি পেতে লাগে ফেইস রিকগনিশন। এমনকি ফেসবুক, গুগলসহ অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমগুলো খোঁজে আপনার বা সন্তানের ছবি।

ফেসিয়াল রিকগনিশন হচ্ছে একটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। চেহারার মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করতে মূলত এটি কাজ করে।

ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে নাগরিকদের প্রতি মুহূর্তে শনাক্ত করে রেখে চীন সরকার এ পদ্ধতিকে কাজে লাগায়। ফলে কেউ কোনো অপরাধ বা অনিয়ম করে পার পায় না সহজে।

তবে অনলাইন মাধ্যমে এর গুরুত্ব ও পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশয়ের জন্ম দিচ্ছে এটি। মানুষের অজান্তেও এখন কাজ করছে এ বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এয়ারপোর্টে স্ক্যান হয়ে যাচ্ছে আপনার চেহারা। এমনকি কনসার্টেও, অথচ আপনি এর কিছুই জানেন না। শপিংমলেও পার্সোনাল অ্যাডের ক্যামেরায় চলে যাচ্ছে আপনার চেহারা।

তবে এ নিয়ে আছে উল্টো চিত্রও। ফেসিয়াল রিকগনিশন হতে পারে আপনার জন্য সহায়কও। এটির মাধ্যমে স্মার্ট হোম গ্যাজেটসমূহ আরও বেশি স্মার্ট হয়ে ওঠে। আপনার অবর্তমানে পরিবার বা বন্ধুদের কারা এটি ব্যবহার করছে তার নোটিফিকেশন দেবে এটি।

তবে নিরাপত্তা প্রশ্নে খুব কমই সুবিধা দিচ্ছে এটি। বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়া, বর্ণবাদী বিষয় উস্কে দেওয়া ছাড়াও সুরক্ষিত তথ্য ভাণ্ডারে হ্যাকারদের হানা দেওয়া সহজ করে দিয়েছে।  মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেসিয়াল রিকগনিশনের যাত্রা শুরু হলেও এটি কি মানুষকে আরও বেশি ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে? এমন প্রশ্ন ওঠায় এ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন প্রযুক্তি বিশারদরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত