জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৩%, মাথাপিছু আয় বাড়বে ১৫৮ ডলার

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ০২:০১ এএম

প্রথমবারের মতো চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আট শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সে সঙ্গে মাথাপিছু আয় ১৫৮ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত হবে বলে প্রথম আট মাসের তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্ষেপণ করেছে বিবিএস। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে রেকর্ড করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবাÑ এই তিন খাতের ওপর প্রবৃদ্ধির হিসাব নির্ভর করে। তবে মূলত শিল্প খাতের হাত ধরে প্রবৃদ্ধির আকার বেড়েছে।

তিনি জানান, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১৩ দশমিক ০২ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ ছাড়া সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তবে কৃষি খাতে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি কমে হবে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত অর্থবছর ছিল ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ৯০৯ ডলার। গত বছরের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার। সে হিসেবে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ১৫৮ ডলার।

বিবিএসের হিসাবে, অর্থবছর শেষে জিপিডির আকার দাঁড়াবে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। জিডিপি বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপি হিসাবের জন্য ১৫টি উপাদানের মধ্যে প্রায় সবই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশেষ করে রপ্তানি খাত, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল খাতে প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেসরকারি খাতে আশানুরূপ বিনিয়োগ আসেনি।

চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ হবে, যা গত বছর ছিল ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের অবদান ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, সরকারি খাতের অবদান ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে শতাংশের হিসাবে দেখলে হবে না। দেখতে হবে ভলিউম। শতাংশের হিসাবে বিনিয়োগ কম হয়েছে বলে মনে হলেও টাকার অঙ্কে অনেক বেড়েছে। ২০০৯ সালের তুলনায় দেশে বিনিয়োগ তিন গুণ বেড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব সরকারি প্রতিষ্ঠান যা বলছে, সেটাই মানতে হবে। এ হিসাব করার জন্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তবে বিবিএস যে হিসাব দিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ বছর উৎপাদন বেড়েছে, রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও ভালো। এ ছাড়া কমেছে আমদানির পরিমাণ। ফলে এসব উপাদান জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত