ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বেকার সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মোট ভোটারের ৪০ দশমিক ২ শতাংশ বেকার সমস্যা সম্পর্কে সচেতন। নির্বাচনে ভোটাররা এই সচেতনতাকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে।
বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বেশ কয়েকটি ইস্যু তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাফায়েল বিমান চুক্তি, গোরক্ষা, রামমন্দির নির্মাণ ও কৃষক ঋণসংক্রান্ত জটিলতাকে তুলে ধরা হলেও বেকারত্বের বিষয়টি বিশেষ জায়গা পায়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বেকারত্ব দূরীকরণ। গত পাঁচ বছরে বেকার সমস্যা দূর হওয়ার বদলে আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে। ভারতের বেসরকারি খাতে আগের তুলনায় অধিক অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বেসরকারি বিমান কোম্পানি জেট এয়ারওয়েজের মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানকে অর্থসংকটে পড়তে হয়েছে।
ভারতের শেয়ারবাজারের অস্থিরতা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেস আমলের তুলনায় বিজেপির সময়ে শেয়ারবাজারের অবনমন অন্তত ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে অনেক তরুণ উদ্যোক্তাই সফল হতে পারেননি ব্যবসাক্ষেত্রে।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অরগানাইজেশনের (এনএসএসও) ফাঁস হওয়া এক রিপোর্টে দেখা যায়, ভারতে গত ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মাত্রায় বেকারত্ব সমস্যা বিরাজ করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মোদি সরকার এ রিপোর্ট প্রকাশ হতে দিতে চায়নি। তবে রিপোর্ট ফাঁস হওয়ার পর সরকার এর বিরোধিতা করে। কিন্তু তা করেও রক্ষা হয়নি মোদি সরকারের। কারণ এর অল্প কিছুদিন পরই সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির প্রকাশিত আরেক রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৮ সালে ভারতে ১১ মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারিয়েছে, যা বেকারত্ব সমস্যাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
মোট ভোটারের ৮০ শতাংশই বিশ্বাস করে বিজেপির আমলে বেকারত্ব দূর হওয়ার বদলে তা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রধান রাহুল গান্ধী বেকারত্বের ইস্যুকে তার নির্বাচনী প্রচারে ভালোভাবেই ব্যবহার করছেন। যদিও এই প্রচার মোদির ভাবমূর্তি অতটা ক্ষুণ করতে পারেনি।
