ইনসমনিয়া কেন হয়

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম

অনেক আছে যারা রাতের পর রাত শুয়ে জেগে থাকে, ঘুমানোর চেষ্টা করলেও তাদের ঘুম আসে না। আবার ঘুমানোর পর মধ্যরাতে জেগে যায়। চেষ্টার পরও আর ঘুমাতে পারে না। অনেকে এটাকে খুব সাধারণ ব্যাপার মনে করে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু, সারা দিনের কাজকর্ম শেষে শরীর ও ব্রেনের বিশ্রাম দরকার হয়। ঘুমের সমস্যা নিয়মিত চলতে থাকলে ক্রনিক হয়ে পরে অসুখে পরিণত হয়। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে ইনসমনিয়া।

প্রতিদিন কতটুকু ঘুমাব

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কাজের চাপ বা ব্যস্ততা খুব বেশি থাকলেও প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কম ঘুমালে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। ঘুমানোর সময় শরীরের কোষগুলোর পুনর্জন্ম ঘটে। শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। ভালো ঘুম ওষুধের থেকেও বেশি কাজ করে।

ইনসমনিয়ার কারণ

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাই ইনসমনিয়ার মূল কারণ। ফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, পড়াশোনা ইত্যাদি কারণে ঘুমে দেরি হয় এবং পরে সঠিক সময়ে ঘুম আসে না। এ ছাড়াও অবসাদ, টেনশন, দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। অতিরিক্ত চা, কফি এমনকি নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা হয়। ধূমপান বা মাদকদ্রব্য গ্রহণ এবং যাদের নিয়মিত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করতে হয়, তাদের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ এবং কিছু কিছু রোগের কারণে ইনসমনিয়া হয়। কাজের সময় একদিন দিনে আবার অন্যদিন রাতে। এ রকম হলে ঘুমের সমস্যা হয়।

ঘুম ঠিকমতো না হলে

সঠিকভাবে ঘুম না হলে অনেক সমস্যা হতে পারে। যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, কোমর ব্যথা ইত্যাদি। ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পায় এবং মেজাজ খিটখিটে থাকে। কাজের ওপর থেকে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ইনসমনিয়ার লক্ষণ

ঘুম দেরিতে আসা, পাতলা ঘুম হওয়া এমনকি বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে দুই-তিন রাত ঘুমাতে না পারা। পড়াশোনা ও অন্য কাজে মনোযোগের অভাব। মেজাজ খিটখিটে থাকা। মাঝেমধ্যেই মাথা ব্যথা হওয়া। অল্প কারণেই রেগে যাওয়া। সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তিবোধ করা।

চিকিৎসা

ঘুমের সমস্যা নিয়মিত হতে থাকলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আপনার কী কী সমস্যা আছে, কেন ঘুম হচ্ছে না ইত্যাদি বিষয়ে চিকিৎসককে বলতে হবে। যাতে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক না। কারণ ওষুধ দিয়ে লক্ষণটা কমানো গেলেও আসল কারণ দূর করা যায় না। দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ খেলে এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার পরও কাজ করে না। সাধারণত রোগের ইতিহাসের ওপর ডাক্তাররা ঘুমের ওষুধ এবং এর পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকেন। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো ইনসমনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন ফ্লুরাজেপাম, ক্লোনাজেপাম, ডায়াজিপাম, ব্রোমাজেপাম, মিডাজোলাম, এসজপিক্লোন, এন্টিডিপ্রেসেন্টস ইত্যাদি। তবে যেকোনো ওষুধ খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত