বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাইচেষ্টার আগে নির্দিষ্ট আসন পরিবর্তন করেছিলেন নিহত পলাশ আহমেদ। দায়িত্বরত এক কেবিন ক্রু নিজ আসনে বসতে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এরপরই পিস্তল বের করেন। পরে হুমকি ও বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান। বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজটির পাইলটসহ ছয় ক্রুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য পেয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
স্বেচ্ছায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন কয়েক যাত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটপ্রধান উপপুলিশ কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছুই বলতে চাইছি না। তবে ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘গত ২০ মার্চ উড়োজাহাজটির পাইলট মো. গোলাম সাফি, ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির মাহমুদ, কেবিন ক্রু নিম্মী, হোসনে আরা, রুমা ও মুজাহিদ তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। বিমান থেকে নেমে আসা সর্বশেষ ব্যক্তিটি ছিলেন কেবিন ক্রু সাগর। তিনি দেশের বাইরে আছেন। দেশে ফিরলে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শুধু তিনি কেন, তদন্তের প্রয়োজনে নিহত পলাশের সাবেক স্ত্রী সিমলাসহ যাকেই প্রয়োজন মনে হবে, জিজ্ঞাসাবাদ করব আমরা।’
জিজ্ঞাসাবাদে ক্রুরা জানান, বিমানটি যাত্রা শুরুর কিছু সময় পর পলাশ তার নির্ধারিত আসন (১৭-ডি) থেকে অন্য সিটে গিয়ে বসেন। কেবিন ক্রু নিম্মী তাকে নির্ধারিত আসনে বসার অনুরোধ করলে ক্ষিপ্ত পলাশ পিস্তল বের করে তাকে হুমকি দেন। নিম্মী বিষয়টি পাইলটকে অবহিত করেন। পাইলট ক্যামেরা অন করে দেখেন পিস্তল ও বোমাসদৃশ বস্তু হাতে পলাশ অনবরত ককপিটে লাথি মারছেন। এ সময় তিনি দুটি পটকা ফোটান বলেও জানান ক্রুরা। পাইলটের নির্দেশে ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির বিষয়টি বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জানান। অপরদিকে পাইলট ইন্টারকমে পলাশের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। পলাশকে কথোপকথনে ব্যস্ত রেখে বিমানটি চট্টগ্রামে অবতরণের পর খুলে দেওয়া হয় ইমার্জেন্সি গেট। সেখান দিয়ে সব আরোহী নামেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা থেকে ১৪৮ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে ময়ূরপঙ্খী। চট্টগ্রাম হয়ে রাতে দুবাই পৌঁছানোর কথা ছিল উড়োজাহাজটির। তার আগেই ‘পিস্তল ও বোমা’ হাতে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। সেদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্যারা কমান্ডো বাহিনীর অভিযানে নিহত হন পলাশ। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
