মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘ যখন আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন দেশের কূটনীতিকরা ২৫শে মার্চের গণহত্যার প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল রবিবার ‘একাত্তরের ২৫শে মার্চের গণহত্যা ও আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ একাত্তরের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো ৯ ডিসেম্বরে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনা নেই। আমাদের মুখ্য সুযোগ ছিল ২০১৫ সালে। তখন জাতিসংঘের ভুল সংশোধনের জন্য কূটনীতিকরা সেভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বুকে পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম গণহত্যা সংঘটিত করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। মাত্র ৯ মাসে ৩০ লক্ষ মানুষ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। এত অল্প সময়ে এত মানুষ হত্যা করার নজির পৃথিবীতে আর কোথাও নেই।’ তবে সরকার এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৫শে মার্চের গণহত্যা বিষয়ে সারা বিশ্বে জনমত গঠনে কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
মোজাম্মেল হক জানান, ২৫শে মার্চ শহীদদের স্মরণে দেশবাসী আগামীকাল (আজ) রাত ৯টা থেকে এক মিনিটের জন্য বাতি বন্ধ রেখে শ্রদ্ধা জানাবে। তিনি আরও বলেন, ‘যারা গণহত্যার সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করে তারা কখনো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করে হত্যা করেছিল তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রশ্ন আসতে পারে আপনারা তাহলে ক্ষমতায় কেন? আমাদের প্রধান লক্ষ্য জনমত সৃষ্টি করা আর দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখা। আমরা এই কাজগুলো করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে রাজাকারের তালিকা করার জন্য আমরা এরই মধ্যে সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো রাজাকারের সন্তান সরকারি চাকরি বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবে না। এর পর থেকে বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকতে হবে এ ব্যাপারেও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শহীদকন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী। এছাড়াও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা (বীরপ্রতীক) ওয়াকার হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অসীম সরকার, সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
