প্রায় তিন দশক পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হলেও ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলো বলছে, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের দখলদারিত্ব ও একাধিপত্যের কারণে তারা ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে ছাত্রলীগ বলছে, ছাত্রদের থেকে বিচ্ছিন্ন বাম ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যাম্পাসের সবখ জায়গায় সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের একক আধিপত্য বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু করেছে। এই পরিবেশে কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্যানেল নিয়ে কথাও বলতে পারবে না। এই সংস্কৃতি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ খন্দকার বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমাদের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমাবেশ ও মিছিলে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন হামলা চালিয়েছে। আমরা সেগুলোর বিচার দাবি করেও কোনো ফল পাইনি। ক্যাম্পাসের সব জায়গায় ও হলগুলোতে তাদের একক দখলদারিত্ব রয়েছে, যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান। চাকসু নির্বাচনের আগে সব সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা না গেলে চাকসু নির্বাচন একটি অগণতান্ত্রিক নির্বাচনে পরিণত হবে।’
১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর গত ২০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নীতিগত অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকসুর নীতিমালা সময়োপযোগী করার জন্য চবি বিজ্ঞান অনুষদ ডিন প্রফেসর ড. শফিউল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা প্রণয়নে কমিটি গঠনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের চবি শাখার সভাপতি ধীষাণ প্রদীপ চাকমা বলেন, প্রশাসন গত বছর হলগুলোতে মেধার আসন বরাদ্দ না দিয়ে শুধু ছাত্রলীগকেই বরাদ্দ দিয়েছে। ফলে হলগুলোতে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য রয়েছে। তাই প্রশাসনকে উদ্যোগ নিয়ে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তবে মৌলবাদী অপশক্তির সংগঠন ‘ছাত্রশিবির’ যেন ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। ছাত্র ফেডারেশনের (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল) চবি শাখা নেতা মো. আরাফাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ‘ডাকসু মার্কা চাকসু’ নির্বাচন চাই না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই দলগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আনা বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফজলে রাব্বি সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ দীর্ঘকাল ধরে মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে সাধারণ ছাত্রদের পাশে রয়েছে। কিন্তু বাম সংগঠনগুলো ছাত্রদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধুমাত্র তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে।’
হলে দখলদারিত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হলগুলোর সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের যোগত্যায় সিট বরাদ্দ পাওয়ার পর আমরা আমাদের সাংগঠনিক দক্ষতায় তাদের ছাত্রলীগে আনতে পারেছিÑ এটা আমাদের সাংগঠনিক যোগ্যতা। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলেও আমরা কথা দিচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচন পর্যন্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত থাকবে।’
তবে ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর ফোনে কল দিলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে কেটে দেন।
