ছদ্মবেশে বাকশাল কায়েম করেছে সরকার : ফখরুল

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৩:১১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আবারও নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ছদ্মবেশে একটা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন।’ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সভা হয়।  পরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) শিল্পীদের পরিবেশনায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  স্বাধীনতা দিবসের দিন আজ সকালে বিএনপি নেতারা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। সেখান থেকে ফিরে শেরেবাংলা নগরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন তারা। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার বিকেলে নয়াপল্টন থেকে স্বাধীনতা র‌্যালির কর্মসূচি রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বারবার বোঝাতে চাচ্ছে, বাংলাদেশের এমন উন্নয়ন হয়েছে যা অতীতে কখনো হয়নি। পৃথিবীর কাছে আজকে তা একটি রোল মডেল হয়ে আছে। কিন্তু আসলে ভেতরটা ফাঁকা। সরকার যে উন্নয়নের কথা বলে তা আসলে দুর্নীতির উন্নয়ন। এতে আওয়ামী লীগের কিছু লোক ধনী থেকে আরও ধনী হয়েছে।’

স্বাধীনতা দিবসে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে নেতাকর্মীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই কারাবন্দি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা। তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্রের মুক্তি মিলবে।  আসুন সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে সরকার ইতিহাসকে বিকৃত করে মানুষকে ভিন্নপথে পরিচালিত করতে চাচ্ছে। স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যারা লুকোচুরি করে বা ইতিহাসকে বিকৃত করে, তা কোনোভাবে ক্ষমার যোগ্য নয়।’

‘বাকশালের ফরম ওয়েস্ট পেপার বাক্সে ফেলেছিলেন শহীদ জিয়া’ : সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগ দিয়েছিলেনÑ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের এ বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘বাকশাল যখন গঠন করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেড কোয়ার্টারে আমি তৎকালীন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলাম। একদিন সকাল ১০টার সময় জেনারেল জিয়া আমাকে বললেন, দেখ তো হাফিজ আমার কাছে একটা ফরম পাঠিয়েছে। আমি দেখলাম এটা বাকশালে যোগদানের ফরম। উনি বললেন, তোমরা কী বলো? আমি বললাম, স্যার এই ব্যবস্থা টিকবে না, আপনি এটাতে যোগ দেবেন না। উনি আমার দিকে তাকালেন। কিন্তু সাইন করেননি। এরপর উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, ফরমটা নিয়ে উনি ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটের মধ্যে ফেলে দিলেন।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত