বাংলাদেশে আসা উড়োজাহাজে নিজস্ব ‘স্কাই মার্শাল’ চায় ভারত

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

বাংলাদেশে আসা সব ভারতীয় উড়োজাহাজে স্কাই মার্শাল হিসেবে পরিচিত অস্ত্রধারী বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী রাখতে চায় ভারত। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সন্ত্রাসী হামলা বা অপহরণ ঠেকাতে বাণিজ্যিক বিমানে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্কাই মার্শাল বলা হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকা-ের পর সন্ত্রাস দমনে এ সংস্থা গঠন করা হয়। বাংলাদেশগামী উড়োজাহাজে যেসব স্কাই মার্শাল নিয়োগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তারা এনএসজির সদস্য।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘খেলনা পিস্তল’ নিয়ে পলাশ নামে এক যাত্রীর উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টা এবং তার মৃত্যুর ঘটনায় ‘এভিয়েশন ওয়ার্ল্ডে’ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছায়। এর পরপরই চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের অস্ত্রসহ বিমানবন্দরে  প্রবেশ, যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী মাসুদ হোসেনকে অস্ত্রসহ আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এয়ার ইন্ডিয়া ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ঢাকাগামী উড়োজাহাজে স্কাই মার্শাল নিয়োগের প্রস্তাব দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ভারতীয় এয়ারক্রাফটে আর্মড স্কাই মার্শাল রাখার প্রস্তাব পেয়েছি। এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’ এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘পলাশের ঘটনা হালকাভাবে দেখার কোনো কারণ নেই। ওইদিন বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা মুর্হূতেই সারা বিশে^ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনা প্রমাণ করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কত অপ্রতুল। আজ ভারত স্কাই মার্শাল রাখতে চাচ্ছে। আগামীকাল অন্য কেউ চাইবে। বাংলাদেশে পরিচালিত কোনো সংস্থার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। শুধু বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোথাও এ ব্যবস্থা চালু আছে কি নাÑ তা আমার জানা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন যদি বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা না বাড়ায় তাহলে এ ধরনের প্রস্তাব আসতেই থাকবে। একপর্যায়ে হয়তো কোনো-না-কোনো প্রস্তাব মানতে হবে। যা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। নিজের নিরাপত্তা নিজে বাড়াতে পারলেই আমাদের কল্যাণ হবে। নিরাপত্তার জন্যই আটকে আছে ক্যাটাগরি টু থেকে ক্যাটাগরি ওয়ানে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারত ২০১০ সালেও এ ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি বেশিদূর গড়ায়নি। এরপর যেসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় তাতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। পলাশের উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনার পর তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে। যাই হোক বিষয়টি হয়তো মন্ত্রণালয় পর্যায়ে মীমাংসা হবে না। রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা আরও জানান, ভারত থেকে যেসব উড়োজাহাজ বাংলাদেশে আসে বা বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায় সেগুলোতে এমনিতেই বেশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সেই নিরাপত্তা বা চেকিং আরও বাড়ানো হতে পারে। স্কাই মার্শাল থাকলেও এসব নিরাপত্তা বা চেকিংয়ের দায়িত্ব বাংলাদেশকেই নিতে হবে।

দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০টি সংস্থা বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৭টি সংস্থা কাজ করে। প্রতিদিন গড়ে ৩৫ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করছে এ বিমানবন্দর দিয়ে। নানা কৌশল নিয়েও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। প্রতিদিনই বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণসহ হরেক রকমের চোরাই মালামাল পাচার হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত