‘২২তলা ভবনের আগুন নেভানোর সরঞ্জাম নেই, উন্নয়নের চাপাবাজি’

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ০৩:৪০ পিএম

বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২২তলা ভবনে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম নেই, অথচ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে বলে চাপাবাজি করা হচ্ছে।

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

রিজভী বলেন, একটি ভবনের ধোঁয়া অপসারিত হতে না হতেই আরেকটি উঁচুতল ভবনের অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়া সারা আকাশে বিস্তার লাভ করেছে। একটি বেদনাঘন শোক কাটতে না কাটতেই আরেকটি গভীর শোক আমাদের আচ্ছন্ন করছে। দেশবাসী যেন একটা বিশাল বিস্তৃত গোরস্থানের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।

বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৫ জনের প্রতি গভীর শোক ও তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বিএনপির এই মুখপাত্র। হতাহতদের পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রিজভী বলেন, প্রতিদিনই প্রায় ৫০ জনের মতো মানুষের তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে নানা দুর্ঘটনায়। আগুনের কাছে, বেপরোয়া গতিতে চলা যানবাহনের কাছে, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও বাসের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। একটা জবাবদিহীবিহীন সরকার থাকার কারণেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের মুখে উন্নয়নের মহাসড়কের বুলি শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ২২তলা ভবনে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম নেই, অথচ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে বলে চাপাবাজি চলছে সপ্তকণ্ঠে তারস্বরে। আসলে দুর্নীতির মহাসড়কেই এই সরকার হাঁটছে বলেই সাধারণ মানুষের এত লাশের স্তূপ।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, উন্নত দেশে আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে কত আধুনিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা দেখতে পাওয়া যায়। এর আগে আগুনে অসংখ্য মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর পরেও বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক যন্ত্রপাতিতে উন্নত করেনি। যদি করতো তাহলে এত মানুষের আগুনে পুড়ে প্রাণ যেতো না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে দমন করার জন্য কত যে আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নিয়ে আসা হয়েছে সর্বাধুনিক বিপজ্জনক টিয়ারশেল, স্মোক গ্রেনেড, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, গোলমরিচ-স্প্রেসহ নানা ধরনের আধুনিক অস্ত্র। বিএনপিসহ বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, মানুষ হত্যার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ৩০ হাজার আধুনিক মরণঘাতী ১২ বোর শটগান। শটগানের জন্য ৩০ লাখ কার্তুজ আমদানি করা হয় হাজার কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করে।

“স্বীকারোক্তি আদায় বা নির্যাতনের জন্য আনা হয়েছে ইলেকট্রিক চেয়ার ও ইলেকট্রিক শক দেওয়ার অত্যাধুনিক ডিভাইস। বিরোধী দলের ফোনে আড়িপাতার জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হয়েছে। গোপনে অডিও-ভিডিও করার উন্নতমানের ডিভাইস নিয়ে আসা হয়েছে।”

রিজভী বলেন, মানুষ হত্যার জন্য ব্যয়বহুল আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু মানুষ বাঁচানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দেশের জনগণ মনে করে এই আগুনে পুড়ে মানুষগুলো মরার দায় শেখ হাসিনা সরকারের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত