বলিউডে দাপুটে অভিষেক হয়েছিল চোপড়া বাড়ির মেয়ে পরিণীতির। ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বেহেল’ সিনেমায় অভিনয় করে সে বছর সেরা নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে বলিউডের যাবতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেছিলেন তিনি। এমনকি পরের দুই বছর ‘ইশেকজাদে’ ও ‘হাসি তো ফাসি’ সিনেমা দুটি দিয়ে সাফল্যের জয়রথ সামলে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয় তার খারাপ দিন। একের পর এক সিনেমা ফ্লপ করতে থাকে। এমন একটা সময় আসে যখন কোনো সিনেমা হাতে না থাকায় ঘরে বসে থাকতে হয়েছে তাকে। অবশেষ দিন ফিরছে পরিণীতির। সেই গল্পই শোনাচ্ছেন ইফতেখার শুভ।
প্রায় বছর খানেক কোনো সিনেমাই হাতে ছিল না পরিণীতির। অবশেষে ‘মেরি পিয়ারি বিন্দু’তে মনকাড়া অভিনয় ও গানে নজর কাড়েন। জানান দেন তিনি একেবারে ফুরিয়ে যাননি। কিন্তু বক্স অফিসে সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেননি। এরপর ব্রাদার সিনেমায় বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে একটি আইটেম গানে গ্ল্যামার দিয়ে আলোচনায় ওঠেন। যে পরিণীতিকে ফিটনেস নিয়ে খোটা দেওয়া হতো সেই পরিণীতিই একেবারে ছিপছিপে গড়নে হাজির হন পর্দায়। কিন্তু হাতে ভালো সিনেমা না এলে কি আর দিন ফেরে!সেই অপেক্ষাতেই ছিলেন তিনি। অবশেষে বাগে আনেন রোহিত শেঠির হিট সিনেমার সিক্যুয়েল ‘গোলমাল রিটার্নস’-এ। দীর্ঘদিন পর পরিণীতির সিনেমা বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করলেও একগাদা তারকার মধ্যে নিজেকে আর কতই বা তুলে ধরা যায়। আবার অপেক্ষা এমন একটি সিনেমার যা তাকে একক নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। অবশেষে ২০১৯ তার জন্য শুভ বলে বিবেচিত হলো। গত মার্চে মুক্তি পায় তার ও অক্ষয় কুমার অভিনীত সিনেমা ‘কেশরি’। একদিকে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতির মাঠ, অন্যদিকে খেলার মাঠে চলছে আইপিএল। এর মাঝেই পরিণীতি পেয়ে গেছেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হিট সিনেমা। আর সুপারস্টার অক্ষয় কুমারও পেয়ে গেছেন ব্যবসায়িক বিচারের নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সফল ছবি। এমনকি এই সিনেমা এখন পর্যন্ত বলিউডের সবচেয়ে হিট সিনেমা বলে বিবেচিত হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ‘কেশরি’ ঘরে আনতে পেরেছে প্রায় ১৪০ কোটি রুপি। ‘কেশরি’ পরিচালনা করেছেন অনুরাগ সিং। সামনে আসছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে পরিণীতি অভিনীত ‘জাবারিয়া জুড়ি’ সিনেমাটি।
শুধু অভিনয় নয়, যে পোশাক আশাকের জন্য অনেক বেশি সমালোচিত হয়েছেন পরিণীতি সেই ফ্যাশনের জন্যই এখন তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। এ নিয়ে পরিণীতি বলেন, ‘আমি আসলে ব্যর্থতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমার অসময়ে চিনেছি আসল বন্ধু কারা, কারা আমাকে সত্যিই ভালোবাসে। কয়েকজন মানুষের কথা বলতেই হয়, যারা আমাকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। আমাকে ইন্ডাস্ট্রিতে এনেছেন আদিত্য চোপড়া। তিনিই আমাকে বারবার কাজের সুযোগ দিয়েছেন, যাতে নিজেকে প্রমাণ করতে পারি। কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী আমার প্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। করন জোহর পরামর্শ দিয়েছেন কীভাবে নিজেকে ফ্যাশনেবল করে উপস্থাপন করা যায় নিজেকে। আর আমার বন্ধু আলিয়া মানসিকভাবে খুব সাপোর্ট দিয়েছে। মিমি দিদির (প্রিয়াঙ্কা চোপড়া) কথা আর কী বলব! সে আমার সব সময়ের অনুপ্রেরণা। তাকে দেখে আমি আত্মবিশ্বাসী হই। সে আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে বারবার হোঁচট খেয়েও উঠে দাঁড়াতে হয়। কীভাবে ব্যর্থতার সময়েও নিজেকে ভালোবাসা যায়। কারণ মিমি দিদি কখনো আমাকে বলেনি কেন তুমি ব্যর্থ হচ্ছো। বরং ভালো কিছু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’
