গ্রিনলাইনকে হাইকোর্ট

ক্ষতিপূরণ না দিলে পরিবহন বন্ধ বাস নিলামে

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৮ এএম

রাজধানীর দোলাইরপাড়ে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় বাম পা হারানো রাসেলকে চিকিৎসা খরচ হিসেবে ১০ এপ্রিলের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে বাস মালিককে। তা না হলে ১১ এপ্রিল থেকে গ্রিনলাইন পরিবহনের টিকিট বিক্রি বন্ধ ও বাস জব্দ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে হাইকোর্ট। ক্ষতিপূরণ না দিলে পরিবহনটি বন্ধ ও বাস নিলামে তোলা হবে বলেও গতকাল বৃহস্পতিবার মৌখিকভাবে হুঁশিয়ারি দেয় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি

কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. অজিউল্লাহ। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা ও উম্মে কুলসুম স্মৃতি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। এদিন ক্রাচে ভর দিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাইকোর্টে আসেন রাসেল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রিনলাইন কর্র্তৃপক্ষ তার খোঁজখবর নেয়নি। এরই মধ্যে চিকিৎসায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ওই বাসের চালক গত ১৪ জানুয়ারি জামিন পেয়েছেন। এরা খুব প্রভাবশালী। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

গত ৩১ মার্চ এক আদেশে রাসেলকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইনকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। পাশাপাশি ৪ এপ্রিল বিষয়টি আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়। এর আগে ৩১ মার্চ সকালে গ্রিনলাইনের আপিল খারিজ করে দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ।

একাধিকবার আদেশ দেওয়ার পরও টাকা না দেওয়ায় গতকাল উষ্মা প্রকাশ করে গ্রিনলাইনের মালিক মো. আলাউদ্দিনকে তলব করে আদালত। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপককে দুপুর ২টায় তলব করা হয়। এ সময় আদালত বলে, ‘যত বড় বিজনেসম্যান হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।’ আদালত আরও বলে, ‘ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করলে প্রয়োজনে গ্রিনলাইন পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। গাড়ি সিজ (জব্দ) করে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করে টাকা দেওয়া হবে।’

দুপুরে গ্রিনলাইনের ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সাত্তার আদালতে এসে জানান, পরিবহনের মালিক চিকিৎসার জন্য ৩১ মার্চ দেশের বাইরে গিয়েছেন, ফিরবেন ৯ এপ্রিল। গ্রিনলাইনের মালিকের বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি তার আইনজীবী অবহিত না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় আদালত।

আদালত এ সময় মানবিক দিক বিবেচনা করে গ্রিনলাইনকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে টাকা দিতে সময় দিয়ে ওইদিন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। গ্রিনলাইনের ব্যবস্থাপকের উদ্দেশে আদালত বলে, ‘১০ এপ্রিলের মধ্যে টাকা না দিলে ১১ এপ্রিল টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখবেন। এই সময় অযথা টিকিট বিক্রি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলবেন না। আমরা ১০ তারিখ পর্যন্ত দেখব। না হলে বাস জব্দ করা হবে।’

গত বছর ২৮ এপ্রিল রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দোলাইরপাড় এলাকায় গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রাইভেটকারকে চাপা দেয়। প্রাইভেটকারচালক গাইবান্ধার পলাশবাড়ির বাসিন্দা রাসেল সরকারের (২৩) সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার পায়ের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেন চালক কবির মিয়া। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাসেলের বাম পা কেটে ফেলতে হয়। ডান পায়েও গুরুতর জখম হয়।

ওইদিনই চালক কবিরকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন রাসেলের বড় ভাই আরিফ। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। গত বছর ১৪ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটের ওপর শুনানি নিয়ে রাসেলকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে নাÑ তা জানতে রুল জারি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত