উপজেলা নির্বাচনে ‘নৌকাডুবিতে’ প্রকাশ্যে বা অন্তরালে কাজ করার অভিযোগ ওঠা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় উপস্থিত দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকেলে গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
তারা আরও বলেন, উপজেলা নির্বাচনে অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শুধু দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতাই নয়, নেতাকর্মীদের নানাভাবে হেনস্তা ও অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। এসব বিষয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলীয় প্রধান। তবে যাদের বিরোধিতার মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে ছিল তাদের ক্ষমা করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সভায় উপস্থিত নেতারা আরও বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, রমজানের পর শুরু হওয়া দলের সাংগঠনিক সফর যেন শুধুমাত্র বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যাওয়া, প্রতিনিধি সভা করা, বক্তব্য দেওয়া এসবের মধ্যে শেষ না হয়। এই সফর যেন কার্যকর হয়। জেলা-উপজেলায় গিয়ে যেসব জেলা-উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি সেসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলনও যেন এই সফরের মধ্যে শেষ করা হয়।
কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, এই সফরের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক জেলা-উপজেলায় প্রবীণ নেতারা রয়েছেন, যারা কেন্দ্রীয় অনেক নেতার চেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিক। সফরে গিয়ে তাদের যাতে মূল্যায়ন করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতা বলে তৃণমূলের নেতার সঙ্গে কেউ যেন অভদ্র আচরণ না করেন। তৃণমূলের প্রবীণ সব নেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও মূল্যায়ন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তারা জানান, সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়ে আমি একটি ডেটাবেজ করতে চাই। প্রত্যেক ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রত্যেক নেতার নাম-ঠিকানা ওই ডেটাবেজে থাকবে।’ এসব তথ্য সংগ্রহ করতেও কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আসন্ন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি একরামুল হক টিটুকে মনোনীত করা হয়েছে।
