আটটি দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি নদী ও এর তীরবর্তী রেইনফরেস্ট মিলে নিজেই এক মহাদেশ যেন। চির রহস্যের অ্যামাজনকে নিয়ে অনেক গল্প কথাই প্রচলিত। অভিযাত্রীদের সর্বশেষ ঠিকানা হিসেবে আখ্যায়িত এই বিস্ময়কে নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
অ্যামাজন নদী
ইতিহাসে উল্লেখ আছে, ১৫০০ সালের মার্চে স্প্যানিশ অভিযাত্রী ভিনসেন্ট ইয়ানেজ পিজোঁ অ্যামাজন নদীতে প্রথম ইউরোপিয়ান হিসেবে একটি নৌকায় পাল তুলেছিলেন। কিন্তু তার আগেই স্পেনেরই আরেক অভিযাত্রী ফ্রান্সিসকো ডি অরেল্লানা ১৫৪১-৪২ সালে একটি নৌকায় চড়ে সমগ্র অ্যামাজন নদী পাড়ি দিয়েছিলেন। এর আগে এটিকে মারুন নামে ডাকলেও অরেল্লানাই প্রথমবারের মতো গ্রিক নারী যোদ্ধাদের নামে এই নদীর নামকরণ করেন অ্যামাজন। কারণ, নদীটি পাড়ি দেওয়ার সময় একদল আদিবাসী নারী যোদ্ধার আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন তিনি।
নদীর দৈর্ঘ্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ৪ হাজার ৩৪৫ মাইল বা ৬ হাজার ৯৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অ্যামাজনকেই পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম নদী বলা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী, ৬ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মিসরীয় নীলনদ পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম। তবে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের হিসাব অনুযায়ী, অ্যামাজনের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৪৩৭ কিলোমিটার হলে অল্প ব্যবধানের জন্য এটি দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। পৃথিবীতে নদীজলের ২০ ভাগই অ্যামাজন নদীতে রয়েছে। দীর্ঘতম এই নদীতে বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ফ্রেঞ্চ গায়ানা, পেরু, সুরিনাম এবং ভেনেজুয়েলা থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ১৫ হাজার উপনদী অ্যামাজনের সঙ্গে এসে মিলেছে। নদীর মূল স্রোতধারাটি উৎপন্ন হয়েছে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে। মধ্য ডিসেম্বর থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভেজা মৌসুমে অ্যামাজন নদী গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ ফুট গভীর হয়ে যায়। এই নদী থেকে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৭৪ লাখ কিউবিক ফুট পানি আটলান্টিক সাগরে গিয়ে মিশে। বর্ষাকালে এই পরিমাণটা দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কিউবিক ফুট। শুকনো মৌসুমে নদীটি এক মাইল থেকে শুরু করে কোনো কোনো জায়গায় ৬ দশমিক ২ মাইল পর্যন্ত প্রশস্ত।
অ্যামাজন অববাহিকা
বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু, সুরিনাম এবং ভেনেজুয়েলা এই আট দেশজুড়ে প্রবাহিত অ্যামাজন নদী ও এর শাখা-প্রশাখার অববাহিকা ভূমি রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ৯৬ হাজার বর্গমাইল। এই অববাহিকার প্রায় ২১ লাখ বর্গমাইলজুড়ে অ্যামাজন রেইনফরেস্টকে অ্যামাজোনিয়া বলেও ডাকা হয়। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ রেইনফরেস্ট।
পৃথিবীর মোট প্রাণিকুলের ১০ শতাংশেরই বসবাস অ্যামাজন নদী ও এর জঙ্গুলে অববাহিকায়। যার মধ্যে রয়েছে, ১৮০ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৬২ প্রজাতির উভচর, ২৯৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৬৯৭ প্রজাতির মাছ, ৮০৬ প্রজাতির পাখি এবং প্রায় আড়াই হাজার প্রজাতির প্রজাপতি। অ্যামাজন জঙ্গলে গাছপালার ঘনত্ব এত বেশি যে, এটি বন্যপ্রাণীদের বসবাসের জন্য আদর্শ জায়গা।
অ্যামাজন জঙ্গলে প্রায় ৪০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে আছে কয়েক শ প্রজাতির ফার্ন এবং কয়েক হাজার বিচিত্র ফুলের গাছ। গাছপালার ঘনত্বের জন্য বিশাল এই জঙ্গলের বেশির ভাগ এলাকার মাটিই কোনো দিন সূর্যের স্পর্শ পায় না। তাই ছায়াযুক্ত স্থানে যেসব উদ্ভিদ জন্মে, যেমন : অর্কিড, ব্রোমেলিয়াড ও অন্যান্য পরগাছা জাতীয় উদ্ভিদের জন্য অ্যামাজন হলো এক স্বর্গরাজ্য। প্রায় সারা বছরই অ্যামাজন অঞ্চলে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে।
প্রাণিরাজ্য
পেরুকে বলা হয় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের তৃতীয় বৃহত্তম ভূমি। অ্যামাজনের পেরু অংশটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। উর্বর এই রেইনফরেস্ট অঞ্চলটিতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে। এর মধ্যে পুমা, জাগুয়ার ও চিতা বিড়াল বিখ্যাত। আছে বেশ কয়েক জাতের বিষাক্ত ব্যাঙ, আছে বিরল প্রজাতির ডলফিন, যা শুধু অ্যামাজনেই পাওয়া যায়। এ ছাড়া আছে বিশাল আকৃতির ভোঁদড় এবং দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাসকারী প্রাণী আর্মাডিলো, তাপির, ক্যাপিবারা ইত্যাদি।

অ্যামাজন নদীতে বাস করা গোলাপি রঙের ডলফিন খুবই বিখ্যাত। অ্যামাজনের ডলফিন শুধু গায়ের রং নয়, আরও বেশ কিছু দিক দিয়ে অন্যান্য ডলফিনের চেয়ে আলাদা। এ ধরনের ডলফিনকে ঐতিহ্যগতভাবেই অ্যামাজনে বসবাসকারী আদিবাসীরা শিকার করে না। কারণ তারা এই প্রাণীটিকে ঈশ^রের প্রিয় মনে করে। অ্যামাজন নদীতে ঘুরতে গেলে এটি অহরহই চোখে পড়ে পর্যটকদের। তবে, এটি খুবই ক্ষিপ্রগতিতে জলের ওপর শরীর ভাসিয়ে আবার তলিয়ে যায়। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো দূষণের জন্য গোলাপি ডলফিনও আজ হুমকির মুখে। এ ছাড়া বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নদীতে এদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধাগ্রস্ত করছে।
ধারণা করা হয়, অ্যামাজন জঙ্গল হলো জাগুয়ারদের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। অবৈধ শিকার এবং বন জঙ্গল উজাড় হওয়ার কারণে সারা পৃথিবী থেকেই দ্রুত কমে যাচ্ছে জাগুয়ারদের সংখ্যা। আনুমানিক মাত্র ছয় হাজার জাগুয়ার বর্তমানে বাস করছে অ্যামাজন জঙ্গলে। নিশাচর এই প্রাণীটি তাই খুব কমই পর্যটকদের চোখে পড়ে। গাছে চড়া, সাঁতার কাটা এবং শিকারে বেশ দক্ষ হয় জাগুয়ার। শূকরসদৃশ তাপির জন্তুটি এদের পছন্দের শিকার।

অ্যামাজন নদী পিরানহা মাছের জন্যও বিখ্যাত। যদিও বিভিন্ন সিনেমা এবং উপকথায় এটিকে নিয়ে ভয়ংকর সব গল্প প্রচলিত আছে। অ্যামাজন নদীর পেরু অংশেই এদের বসবাস বেশি। লাল ও কমলা রঙের পেটসদৃশ এসব পিরানহা গড়ে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি থেকে সোয়া দশ ইঞ্চি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এই মাছটি নিয়ে প্রচলিত গল্পগুলো অতিরঞ্জিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এরা সত্যিকার অর্থেই ভিতু প্রাণী এবং নিরাপত্তার জন্যই এরা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। তবে, সুযোগ পেলে এরা ভয়ংকর রূপও ধারণ করতে পারে।
এ ছাড়া অ্যামাজন জঙ্গলে প্রায় ১৫০ প্রজাতির বানর রয়েছে। এদের মধ্যে আবার কিছু কমন স্পেসিসও রয়েছে। যেমন : ১৫ প্রজাতির তামারিন, নয় প্রজাতির হাওলার, চার জাতের পশমি ছাড়াও স্পাইডার মাঙ্কি, স্কুইরেল মাঙ্কি এবং তিতি মাঙ্কি রয়েছে। বেশ কিছু বিরল প্রজাতির বানরও আছে সেখানে, যেগুলো অন্য কোনো এলাকায় নেই। এ ছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট আকৃতির বানরের সন্ধান পাওয়া গেছে সেখানে। এ ধরনের বানরের ওজন হয় সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম আর উচ্চতা হয় বড়জোর পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি। অ্যামাজনে বিশাল বিশাল অ্যানাকোন্ডারও বসবাস। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোই এদের বসবাসের জায়গা।
পাখি, পোকামাকড় আর উভচর
অ্যামাজনে প্রায় ১৫০০ প্রজাতির উভচর প্রাণী বিচরণ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে ব্যাঙ। এমনও কিছু এলাকা আছে, যেখানে ছোট্ট একটি এলাকাতেই প্রায় ৮০ প্রজাতির ব্যাঙ বসবাস করে। তবে, সবচেয়ে ভয়ংকর হলোÑ কিছু ব্যাঙ মারাত্মক বিষাক্ত। এগুলো সাধারণত জঙ্গলের ভূমিতে বিচরণ করে এবং দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে। গাঢ় লাল কিংবা কমলা রঙের ব্যাঙ ছাড়াও চকচকে নীল অথবা সবুজ রঙের ব্যাঙগুলোই সাধারণত বিষাক্ত হয়। অ্যামাজনের উপজাতিরা এসব ব্যাঙের চামড়া থেকে শিকারের জন্য বিষ সংগ্রহ করে।
সমগ্র অ্যামাজনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রতি বছরই অন্তত কয়েক হাজার নতুন আবিষ্কার এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। এসব প্রজাতির মধ্যে ২৫ মিলিয়নই হচ্ছে পোকামাকড়। অ্যামাজনের মাত্র এক একর রেইনফরেস্টেই প্রায় ৭০ হাজার প্রজাতির পোকামাকড় বাস করে। গবেষকরা একবার একটি গাছের মধ্যেই ৭০০ প্রজাতির পোকামাকড়ের সন্ধান পেয়েছিলেন।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মতো পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে পেরুতেই সবচেয়ে বেশি প্রজাতির পাখির বসবাস। সেখানে প্রায় ১৮০০ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৩৯টি প্রজাতি শুধু পেরুতেই বাস করে। পাখি দেখতে যারা অ্যামাজনে যায়, তারা মূলত জঙ্গলের পেরু অংশেই যায়। এই অংশের সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টরের একটি এলাকায় অন্তত ৬০০ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।
অ্যামাজনের সবচেয়ে দুর্লভ পাখিটি হচ্ছে হোয়াতজিন। বিচিত্র বর্ণিল এই পাখিটি স্বভাবেও অন্য পাখি থেকে আলাদা। তীব্র কটু গন্ধ ছাড়ায় এই পাখিটি। এ ছাড়া এর গলার আওয়াজও এক রহস্য। কারণ এটি কখনো করুণ ও কান্নার সুরে ডাকে, কখনো আবার কাকের মতো কর্কশ শব্দেও ডাকে, কখনো সাপের মতো হিস হিস করে। ব্রাজিল অংশে জঙ্গল উজাড় হওয়ার জন্য প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
আদিবাসী মানুষ
অ্যামাজন নদী অববাহিকায় প্রায় ৪০০ আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস। যার অর্ধেকেরও বেশি বাকি পৃথিবী থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন। আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার কোনো সম্পর্কই নেই। আদিম মানুষের মতো জঙ্গল থেকে ফল-মূল সংগ্রহ, পশু ও মৎস্য শিকারের মাধ্যমে এরা বেঁচে আছে। এসব জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকটিরই আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকা রয়েছে। নিজেদের এলাকায় অন্য কারও আগমনকে এরা সহজভাবে নেয় না।

সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের জরিপ অনুযায়ী, ব্রাজিলে আনুমানিক ২৪০টি নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। এসব নৃগোষ্ঠীর ৯০ হাজার সদস্যের মধ্যে অন্তত ৬৯০টি আলাদা নিয়ন্ত্রণ এলাকা রয়েছে। এসব নৃগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোর ৯৮ শতাংশই অ্যামাজন জঙ্গলে। অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আদিম মানুষের মতো যতগুলো নৃগোষ্ঠী পৃথিবীতে এখনো টিকে আছে, তার ৮০ ভাগই অ্যামাজন জঙ্গলের ব্রাজিল অংশে। ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, ব্রাজিল অংশে প্রায় ৬৭টি বিচ্ছিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী আছে। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে অর্ধেকেরই জনসংখ্যা সাকুল্যে ১০০ জনের বেশি নয়।
কলম্বিয়ার জঙ্গলে কয়েকটি চরমপন্থি গ্রুপ দাপিয়ে বেড়ালেও অ্যামাজনের এই অংশে অন্তত তিনটি বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই তিন জনগোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা সব মিলিয়ে ৫০০ জনের মতো হতে পারে। ফ্রেঞ্চ গায়ানা অঞ্চলে একটি বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী আছে, যার সদস্য সংখ্যা বড়জোর ১০০ জন। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী আছে প্যারাগুয়ে অংশেও। সব মিলিয়ে এদের জনসংখ্যা তিন হাজার হতে পারে। এ ছাড়া পেরু অংশে প্রায় ১৫টি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর বসবাস। সুরিনামে ২০১৩ সালের আগেই একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলায় আছে অন্তত তিনটি জনগোষ্ঠী।

ব্রাজিলের গহিন অরণ্যে এমন একটি গোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মাত্র একজন সদস্য এখন বেঁচে আছে। দূর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্রে তার অস্তিত্ব দেখা দেখে। বিশে^র সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেই অস্পষ্ট ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুরুষ একটি কুড়াল দিয়ে গাছ কাটছেন। প্রায় ২২ বছর ধরে ৫০ বছর বয়সী মানুষটি একা একাই বাস করছে। তার গোত্রের বাকি সবাই খুন হওয়ার পর থেকেই তার একাকী জীবনের শুরু। ১৯৯৬ থেকে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ওই মানুষটার সঙ্গে বাইরে থেকে কখনো কেউ যোগাযোগ করতে পারেনি বা কথা বলেনি। তার গোষ্ঠীর নামও অজানা এবং তারা কোন ভাষায় কথা বলত, সেটাও কেউ জানে না। ১৯৯৫ সালে কৃষকরা তাদের ওপর হামলা করলে এই ব্যক্তি ছাড়া তার গোত্রের সবাই নিহত হন।
অ্যামাজনের পেরু অংশে রিবারেনোস সম্প্রদায়ের বাস। ইউরোপীয় বংশধারার সঙ্গে এদের যোগসূত্র রয়েছে। নদীর পাড়জুড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামে এদের বসবাস। এরা বিচ্ছিন্ন নয়, পর্যটকদের সঙ্গে এদের হরহামেশাই যোগাযোগ ঘটে। মূলত এরা কৃষি এবং শিকারের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া এরা কারুপণ্য নির্মাণেও সিদ্ধহস্ত। যেসব পর্যটক অ্যামাজনে ঘুরতে যান, তাদের কাছে এসব কারুপণ্য বিক্রি করে রিবারেনোসরা। নিজেদের তৈরি পণ্য নিয়ে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে এরা। বিচিত্র সংস্কৃতির এমন আরও অনেক গোত্রই আছে যারা ধীরে ধীরে বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তবে, একেবারে বিচ্ছিন্ন কিছু গোত্র আছে, যাদের কাছে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। দূর থেকে হেলিকপ্টার অভিযানে এমন কিছু গোত্রভুক্ত মানুষের ছবি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জঙ্গল ধ্বংস, আগ্রাসন এবং চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যে অ্যামাজনের অনেক আদিবাসী গোত্রই চিরতরে হারিয়ে গেছে। যতই দিন যাচ্ছে, অ্যামাজনের রহস্য দিনকে দিন প্রকাশিত হচ্ছে।
