সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তুহিনের

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০২:০৬ এএম

ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হতে চেয়েছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে তাজউদ্দিন হোসেন তুহিন। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল রাজধানীর কদমতলা পূর্ব বাসাবো উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এ ছাত্র। একমাত্র সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। শোক সইতে না পারায় তাদের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখছে স্বজনরা। গতকাল শনিবার তার বাসায় নিজ কক্ষের দেওয়ালে দেখা যায়, তার হাতে লেখা নাম ও বিভিন্ন রকমের ফুল আঁকা। পড়ার টেবিলে বইগুলো ছড়ানো-ছিটানো।

গত শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে তুহিন (১৭) ও তার বন্ধু আবদুল্লাহ আল নোমান (১৭)। ফ্লাইওভারের বাসাবোমুখী ঢালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।           

তুহিনের বাবা মো. তোফাজ্জল হোসেন ডিশ ব্যবসায়ী। মা শাফি বেগম গৃহিণী। তারা থাকেন বাসাবোর সবুজবাগ অহাব কলোনিতে। তুহিনের মেজো খালা রাবেয়া বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুক্রবার  জুমার নামাজের পর নতুন মোবাইল ফোন কেনার জন্য বন্ধুর সঙ্গে বেরিয়েছিল বসুন্ধরা শপিং মলের উদ্দেশ্যে। দুই বন্ধু যেন কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে চায়নি। একসঙ্গে ঢলে পড়েছে মৃত্যুর কোলে।’ তিনি বলেন, ‘বের হওয়ার সময় তুহিন বলে, আমাকে ৫০ টাকা দাও। আমি বসুন্ধরায় একটা নতুন ফোন দেখতে যাব। পরে বলে, থাক দিতে হবে না, আম্মু ৩০০ টাকা দিয়েছে।’ এই বলে খালাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেয়ে বিদায় নেয় তুহিন।

রাবেয়া আরও বলেন, ‘তিন বোনের এই একটামাত্র ছেলে ছিল। আমরা তিন বোন কী নিয়ে থাকব। আমার তুহিন খুব বেশি বাইরে যেত না। সারা দিন কোচিং করত, আবার স্কুলের সময়ে স্কুলে যেত। খেলাধুলাও তেমন বেশি করত না। মে মাসে তার সতেরো বছর পূর্ণ হবে।’ তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বলেছিল। কিন্তু তার বাবা রাজি হয়নি। তুহিন ছিল সবার আদরের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে থেকে লাশ শুক্রবার রাতেই বাসায় আনা হয়। গতকাল সকাল ৭টায় তাকে বাসাবো সরদারবাড়ী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত