না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা টেলি সামাদ। শনিবার বেলা দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। বাংলা চলচ্চিত্রে তার মতো কৌতুক অভিনেতা আর পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।
এদিকে গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁওয়ে সমাহিত করা হয় অভিনেতা টেলি সামাদকে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন টেলি সামাদ।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফডিসিতে চতুর্থ জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সিগঞ্জে। সেখানে বাদ আসর প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় টেলি সামাদের শেষ জানাজা।
জনপ্রিয় এই অভিনেতার শেষ জানাজায় অংশ নিতে ছুটে এসেছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার নানা প্রান্তের অগণিত ভক্ত।
উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিছ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মতিউল ইসলাম হিরো ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন জাকির, চিত্রশিল্পী সেন্টু সরকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ দাস ববি, নাট্যব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর ঢালী, মুন্সিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূপুর চৌধুরীসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন ৭৪ বছর বয়সী টেলি সামাদ। বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হন। গত ডিসেম্বরে টেলি সামাদের শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৪ এপ্রিল স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। কামাল পাশার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। এ অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে। স্ত্রী নিগার সুলতানা, দুই মেয়ে সোহেলা ও সায়মা এবং এক ছেলে সুমনকে রেখে গেছেন টেলি সামাদ।
১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন টেলি সামাদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা তার বড়ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সংগীতেও রয়েছে এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।
টেলি সামাদ ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রী’।
উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সুজন সখি, মায়ের চোখ, মন বসে না পড়ার টেবিলে, কাজের মানুষ, মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, মিস লোলিতা, নতুন বউ, মাটির ঘর, নাগরদোলা, গোলাপী এখন ট্রেনে, অশিক্ষিত, গুন্ডা, চাষীর মেয়ে, রঙিন রূপবান ও ভাত দে।
