ব্রিটিশ মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী

হতাশ রোহিঙ্গারা খারাপ কাজে জড়াতে পারে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫১ এএম

দেশ ছাড়া রোহিঙ্গারা হতাশ হয়ে এ দেশে খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত চাপ বাড়ানো উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন তিনি।   

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রী জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরছাড়া রোহিঙ্গারা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। তারা এখনো

           

জানে না দেশে ফিরতে পারবে কি না। তাদের ভবিষ্যৎ কী? এসব বিষয় তাদের হতাশ করছে। এভাবে চলতে থাকলে সুযোগসন্ধানী চক্র রোহিঙ্গাদের খারাপ কাজে লিপ্ত করতে পারে। এতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে। 

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারকে জোরালো চাপ দেওয়া। রোহিঙ্গারা আমাদের স্থানীয় জনগণের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি হয়ে গেছে। এতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের কষ্টকর জীবনযাপন করতে হয়। তবে কিছু সমস্যা কমাতে নোয়াখালীর ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে।

ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মার্ক ফিল্ড রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের বড় বোঝা বলে মন্তব্য করেন। সংকট সমাধানে ব্রিটেন সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি। এছাড়া টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান ব্রিটিশ মন্ত্রী। মার্ক ফিল্ড বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুদেশের সম্পর্ক এখন অনেক মজবুত। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ব্রিটেন এক সঙ্গে কাজ করবে বলে আশা করেন ব্রিটিশ মন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের সম্পর্ক চমৎকার আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য ও তার জনগণ বাংলাদেশকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছিল। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশকে সমর্থন করায় যুক্তরাজ্যের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিটিশ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা জীবন গণতন্ত্র উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের গণমাধ্যম শতভাগ স্বাধীন। তারা খোলামেলা মত প্রকাশ করছে। বৈঠকের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার কানবার হোসেইন বোর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত