রপ্তানি আয় ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের তেজিভাব রয়েছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি হিসাবের ঘাটতি কমলেও বাংলাদেশের সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। আগামীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতা এলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু ঝুঁকির কথাও বলেছে সংস্থাটি।
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ওপর বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘এক্সপোর্টস ওয়ান্টেড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের বড় দু’টি ঝুঁকির একটি হলো আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অন্যটি বেসরকারি বিনিয়োগের গতিতে প্রতিকূলতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণ হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক থাকবে। কারণ রপ্তানি গতিশীল রয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ ভোগ বেড়েছে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, সঙ্গে কৃষি উৎপাদনও। তবে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ আশানুরূপ নাও হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। দুই বছর পরপর বিশ্বব্যাংক অঞ্চলভিত্তিক এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী অঞ্চলগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া শীর্ষে রয়েছে। ২০১৯ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ। এর পরের দুই বছর অর্থাৎ ২০২০ ও ২০২১ সালে এ অঞ্চলে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির এ গতিশীলতা ধরে রাখতে এবং সম্ভাবনার পুরোটা পেতে হলে রপ্তানি বাড়াতে হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি এখনো গতিশীল। কিন্তু আমদানি ব্যয় রপ্তানিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে এবং মুদ্রার মান কমছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কাফার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানি কমছে। এতে সম্ভাবনা মøান হচ্ছে। এটা দীর্ঘদিন চলবে কি-না তা নিয়ে বিশ্বব্যাংক উদ্বিগ্ন। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে এ অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। একইসঙ্গে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের জীবনের উন্নয়ন করতে হবে।
গত দুই বছরে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক বেড়েছে। ২০১৭ সালে এ অঞ্চলের আমদানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। যা গত বছর দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে। আর ২০১৭ সালে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, যা পরের বছর ৯ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার বলেন, রপ্তানি বাড়াতে কোনো ধরনের একক সমাধান নেই। এখানে নীতিনির্ধারকদের উচ্চমাত্রার সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া পরবর্তীকালে রপ্তানির পাওয়ার হাউসে রূপান্তরিত হতে পারে। এ জন্য বাণিজ্য উদারীকরণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অনুপ্রেরণা দেওয়া ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।
