বাবার চিকিৎসা করা হলো না

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

রাজধানীর বনানীর অগ্নিকান্ডে আটকে পড়াদের উদ্ধারকাজে ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী সোহেল রানা। সংসারের একমাত্র উপার্জন করা বড় ছেলেকে অকালে হারিয়ে দিশেহারা মা হালিমা খাতুন। ছুটিতে বাড়ি ফিরে অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করার কথা ছিল তার। সোহেলের আয়ের টাকায় ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চলত। তিন বছরের চাকরি করে দরিদ্র পরিবারের সকল ঋণ পরিশোধ করেন তিনি। সোহেলকে হারিয়ে এখন অন্ধকার দেখছে তার পরিবার।

কিশোরগঞ্জ ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা ইউনিয়নের কেরুয়ালা গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন সোহেল রানা। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসড হয়ে ঘরবন্দি বাবা, মা হালিমা খাতুন গৃহিণী। চৌগাঙ্গা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন। অটোরিকশা চালিয়ে আর প্রাইভেট পড়িয়ে ২০১৪ সালে খুব কষ্টে করিমগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন  সোহেল রানা। পরের বছরই যোগ দেন ফায়ার সার্ভিসে। চাকরিতে যোগদানের পর অসুস্থ বাবা ও পরিবারের সদস্যদের দেখতে সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ বাড়ি এসেছিলেন সোহেল রানা।

পরিবারের সদস্যরা গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানান, ঢাকায় যাওয়ার সময় সোহেল তার মাকে বলেছিলেন, ‘নতুন চাকরি, ছুটি নিয়ে আসা যায় না। তবে দুই/তিন মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাবার চিকিৎসা করাব।’

গতকাল সরেজমিনে সোহেলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সন্তানের মৃত্যু খবরে বুক চাপড়ে মাতম করছেন মা-বাবাসহ স্বজনরা। কান্নারত মা হালিমা খাতুন বলছিলেন, ‘সোহেল ছিল আমার সংসারের বড় ছেলে। আমার সংসারের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল সে। তার বাবার চিকিৎসা করাবে বলে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে যায়। তার টাকায় ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ চলত। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ 

 সোহেলের চাচা মো. রতন মিয়া বলেন, ‘সোহেলের আয়েই চলত পরিবারের ভরণ-পোষণ। চাকরির দুই/তিন বছরের বেতন দিয়ে তার দরিদ্র পরিবারের সকল ঋণ পরিশোধ করেছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে অন্ধকার হয়ে পড়েছে আমার ভাইয়ের পরিবার।’

গত ২৮ মার্চ কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা বনানীর অগ্নিকা-ে উঁচু মইয়ে উঠে আগুন নেভানো ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারকাজ করছিলেন। এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটকে পড়া অনেককে উদ্ধার করেন তিনি। সোহেল রানা ল্যাডারের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে রবিবার রাত ২টা ১৭ মিনিটে মারা যান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত