চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নার্সের

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

রাজধানীর উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন ওই হাসপাতালের একজন সেবিকা কর্মকর্তা (নার্সিং অফিসার)। অভিযুক্ত পরিচালকের নাম ডা. আমিরুল ইসলাম। গত ২৭ মার্চ রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন যৌন নিপীড়নের শিকার সেবিকা কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বরে যোগদানের পর অফিসের কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তারিখে আমাকে অফিসে তার কক্ষে কাজের ছলে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়ণ করেছেন।

অভিযোগপত্রে ওই সেবিকা উল্লেখ করেন, ‘তিনি (ডা. আমিরুল) আমাকে বলেন যে, তোমাকে নিয়ে আমি দেশের বাইরে উন্নত কোনো দেশে ১০-১২ দিনের জন্য বেড়াতে যাব। অনেক অজানা, অদেখা জায়গা দেখার সুযোগ পাবে। তোমার কোনো খরচ হবে না, সব টাকা আমি দেব।’

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ‘তোমার স্বামীকে তালাক দিয়ে তিন মাস পর আমার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংসার করতে পারো। ঢাকা শহরে তোমার নামে আমি ৬ তলা বাড়ি করে দেব, জীবনে আর চাকরি করতে হবে না।’

ওই সেবিকা বলেন, ‘তার এসব কথাবার্তা সম্মানের সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলি, আমি একজন আদর্শ মানুষের স্ত্রী, দুই সন্তানের জননী মুসলিম পরিবারের নারী। আমার শিক্ষা ও নারীজীবনে এখন পর্যন্ত কোনো কলঙ্কের দাগ নেই। দয়া করে ভবিষ্যতে এমন কথাবার্তা আর বলবেন না। এ কথা শোনার পর ডা. আমিরুল ইসলাম গাল বাঁকা হাসি দিয়ে মৃদু স্বরে বলতে থাকেন, কত দাপুটে তেজি নারী চাকরি রক্ষা করার জন্য আমাকে নিয়ে কত রাত ঘুমিয়েছে তার কোনো হিসেব নাই। তুমিও স্বেচ্ছায় ঘুমানোর জন্য আমার কাছে প্রস্তাব করবে, সেই অপেক্ষায় রইলাম। আমি একটু আর্থিক চেষ্টা ও নিয়োগ করলে রাস্তায় পড়ে থাকতেও দেখা যাবে।’

অভিযোগকারী বলেন, ‘তার কথা শুনে আমি আতঙ্কের মধ্যে অফিস করতে থাকি। কয়েক দিন পর অফিস থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন অপরিচিত যুবক হুমকি দিয়ে বলে যায়, অফিসের বসের কথা না শুনলে পরিণাম ভালো হবে না। আমার স্বামী বাসার বাইরে বের হলে তাকেও বলে, তোর স্ত্রী নষ্ট নারী। তাকে নিয়ে সংসার করলে তোর প্রাণনাশ হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করেছি।’

গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগকারী সেবিকা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি থানায় একটি জিডি করেছি। তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো তা জানতে পারিনি। তদন্ত কমিটি হলে তো আমাকেও ডাকবে। তখনই জানতে পারব।’

অভিযোগকারী সেবিকা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমি এখন ভয়ে ভয়ে অফিস করছি। নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই রাখতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিরুল ইসলামের দুটি মোবাইলে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি নূরে আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টির তদন্তচলছে। কাজেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে একজন নার্সিং কর্মকর্তার অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অধিদপ্তরের শৃঙ্খলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। অধিদপ্তরের শৃঙ্খলাবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক নিজেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানা নেই। তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) তন্দ্রা শিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ঈশা খাঁ রোডে অবস্থিত ২৫০ শয্যার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালটি বর্তমানে ১০০ শয্যা চালু হয়েছে। অভিযোগকারী সেবিকা কর্মকর্তা গত বছরের ৪ জানুয়ারি এই হাসপাতালে যোগ দেন। এর আগে তিনি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত