কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

আবাসন সুবিধাবঞ্চিত ৮৫ ভাগ শিক্ষার্থী

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২৪ এএম

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজারের বেশি। সেই অনুযায়ী আবাসন-সুবিধা না বাড়ায় সংকটে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর ৮৫ ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন-সুবিধা পাচ্ছেন না। এই সংকটের সুযোগে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন মেস-মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে তাদের অভিযোগ।

প্রশাসনিক ভবন এবং হল কর্র্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ বিভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮১৮ জন। কিন্তু চারটি আবাসিক হলে (তিনটি ছাত্র ও একটি ছাত্রী হল) মাত্র ৬৬৭ জনের আবাসনব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে হলগুলোতে গাদাগাদি করে থাকছেন ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, যা মোটের প্রায় ১৫ শতাংশ। বাকি ৮৫ ভাগ ছাত্রছাত্রী আবাসন-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলে আসনসংখ্যা মাত্র ২০০। সেখানে গাদাগাদি করে থাকছেন ৩০৩ জন। ছাত্রদের হলে সিট পাওয়া গেলেও ছাত্রীহলে সিট পাওয়া ‘সোনার হরিণ’ বলেই মনে করেন শিক্ষার্থীরা। চতুর্থ বর্ষে পড়–য়া ছাত্রীদেরও এক আসনে দুজন করে থাকতে হচ্ছে। তীব্র আবাসন-সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছেন গণরুমের শিক্ষার্থীরা। ছেলেদের তিন হলে মোট ১০টি গণরুম রয়েছে, যেখানে প্রতি কক্ষে ১০ থেকে ২৫ জন করে থাকছেন। কয়েকজন ছাত্র বলেন, ‘একসঙ্গে ১৫-২০ জন থাকায় রুমে পড়ালেখার পরিবেশ পাওয়া যায় না। তা ছাড়া সময়মতো ঘুমানোও যায় না। এতে দৈনন্দিন কাজগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

এদিকে হলে থাকছেন, এমন অনেক শিক্ষার্থীরই আবাসনব্যবস্থা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রদের তিনটি হলে প্রায় ৭০০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করলেও আবাসনব্যবস্থা আছে মাত্র ২৯৫ জনের। অর্থাৎ ৫৭ শতাংশই আবাসিক না হয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে হলে থাকছেন। ক্যাম্পাসের বাইরে বা শহরের বিভিন্ন মেসে থাকতে মেস বা বাসার মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। তা ছাড়া নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত ভোগান্তিসহ দুর্ভোগে পড়তে হয়। লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী পারভীন শানু মজুমদার বলেন, ‘শহরে থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসা অনেক কষ্টের। পরিবহন-সংকটের কারণেও দুর্ভোগে পড়তে হয়।’

মেসের ভাড়ার বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমরা অপরিকল্পিত ভবন নিয়ে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। বাড়িভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়েও অভিযানে নামব।’

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারণ এবং নতুন একটি ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ চলছে একেবারেই ধীরগতিতে। জানতে চাইলে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘হলে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এখনো আবাসিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। তাই অবস্থানকারীদের মধ্যে কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ হলের নির্মাণকাজে ধীরগতির বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চাপ দিচ্ছি। তারা জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ধীরগতিতে কাজ করছে। হলগুলো হয়ে গেলে আবাসন সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত