নুসরাতকে নিয়ে পূরবী বসুর সংক্ষুব্ধ স্ট্যাটাস

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:০৫ পিএম

দুর্বৃত্তের আগুনে নিহত ফেনীর সোনাজাগীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক পূরবী বসু।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

এখন ওদের কী বলবো? লালসার শিকার কিশোরী আর অল্পবয়সী তরুণীরা যখন “ইজ্জত খোয়া গেছে" এই ভয়ে, কষ্টে, লজ্জায়, দুঃখে, অপমানে্‌ আর একাকীত্বে একের পর এক আত্মহত্যা করে চলছিল, ওদের বলেছিলাম, এই বোকামী – এই বঞ্চনা কেন বেছে নিচ্ছ? এখানে তোমাদের দোষ কোথায়? তোমরা তো নিরপরাধ! মরতে হলে, লজ্জা পেতে হলে, মুখ লুকাতে হলে, মানসম্মান খোয়া গেলে তাদের গেছে যারা অপরাধ করেছে। তোমরা মাথা নিচু না করে, ওদের অপরাধ না ঢেকে রেখে জোরেসোরে প্রতিবাদ কর। তোমরা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাক।

আজ নুসরাত, যে আমাদের উপদেশ শুনে অথবা নিজ অন্তর্গত সাহস ও বিবেকের তাড়নায় অতি জঘণ্য এক অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল, অন্যায় মেনে না নিয়ে তার বিচার চেয়েছিল, আত্মহত্যা না করে বাঁচতে চেয়েছিল, তাকে অপরাধীর সাঙ্গপাঙ্গরা পুড়িয়ে মারলো। মেয়েটি নিজের হাতে নিজের জীবন বিনাশ করেনি, ওকে খুন করা হলো। 

অপরাধের শিকারকে খুন করলো অপরাধী দলের-ই লোকজন। তাদের সমর্থকরাই আবার মুল আসামীকে জেল থেকে “নিঃশর্ত মুক্তি”র জন্যে রাস্তায় রাস্তায় মিছিল করলো। আজ তাহলে এই অল্পবয়সী যৌন নির্যাতনের শিকার মেয়েগুলোকে কী উপদেশ দেবো আমরা? কীভাবে ওরা নিজেদের রক্ষা করবে? কীভাবে বেঁচে থাকবে? একটাই কি পথ খোলা রইলো তবে? 

ওদের কানে কানে ফিস ফিস করে ক্রমাগত কি বলে যাবো, “বাঁচতে যদি চাও, এসব কথা, সকল অন্যায় চেপে যাও। চুপচাপ মেনে নাও। প্রতিবাদ কোরো না, কাউকে বলো না।“ অন্ধকারের জীব যারা এসব করছে, নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে তারা আরো পরিপূর্ণভাবে, আরো খোলামেলাভাবে তা করে যাবে। আরো শক্তিশালি, আরও সংগঠিত হবে তারা। তাতে তোমার লাভ? আগুনে পুড়ে তো মরলে না তুমি! ওদের বিকৃত কামনার উপকরণ হয়ে গায়ে হাতে, মুখে, এবং বস্ত্রে আবৃত দেহের বিভিন্ন স্থানে ওদের নখের, দাঁতের সাক্ষ্য বয়ে বেড়ালেও তুমি কোনমতে বেঁচে থাকবে।

আর আমাদের মতো প্রৌঢ়া বা বৃদ্ধা মায়েরাও অসময়ে কন্যা হারিয়ে সন্তানশোকে মুহ্যমান হবো না। আহা, কতো সুখ! নারী হয়ে এর চেয়ে বেশি কী প্রত্যাশা থাকতে পারে এই নষ্ট সমাজের কাছে!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত