পহেলা বৈশাখের উৎসবে যৌন নিপীড়নের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৃথক কর্মসূচি দিয়ে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন।
বর্ষবরণ উৎসবে অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করতে টিএসসি, শাহবাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা জানায় ছাত্র ইউনিয়ন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বর্ষবরণের উৎসবকে আনন্দময় ও উপভোগ্য করে তুলতে দুদিনের কর্মসূচি দিয়েছে। পাশাপাশি হয়রানি ঠেকাতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে সারাদেশে। রাজধানীতে এই উৎসবের মূল কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৫ সালে পহেলা বৈশাখের উৎসবের মধ্যে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে একদল যুবক যৌন নিপীড়ন ঘটনা ঘটায়। সেদিন ওই যুবকদের ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী।
ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ থেকে আট লাঞ্ছনাকারীকে শনাক্তের কথা বলা হলেও এখনও ‘উধাও’ তাদের সাতজন। ওই ঘটনাতেও আটজনের ছবি পাওয়া গেলেও সাতজনের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পুলিশ এ পর্যন্ত কামাল নামে একজনকে চিহ্নিত করার পর আটক করতে পেরেছে, তবে তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, ১৫ সালে বর্ষবরণের দিন যৌন নিপীড়নের ঘটনার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের তরফ থেকে যে বিচার প্রত্যাশা করেছিলাম তা পাইনি। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার নামে বর্ষবরণের দিন বিকেল ৫টার মধ্যে উৎসবের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিত্যাগ করার এক ধরনের বিধিনিষেধ জারি করেছে। আমরা এ বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করছি এবং উৎসবে যাতে কোন নিপীড়নের ঘটনা না ঘটে তার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের শতাধিক কর্মী সতর্ক অবস্থান নেবে বলে জানান তিনি।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এবার দেশের সবচেয়ে বড় কনসার্ট হতে যাচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে এই কনসার্ট। এতে দেশের খ্যাতনামা ব্যান্ড ও শিল্পীর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে বসবে গ্রামীণ মেলা। মেলায় ছোট ছোট স্টলে গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরচেনা রূপ ফুটিয়ে তোলা হবে। যার মাধ্যমে বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সংস্কৃতির নতুন প্রজন্মেও কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন সাদ্দাম বলেন, পহেলা বৈশাখ সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপন করতে সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জনস্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
তিনি বলেন, এবারের পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনকে উপভোগ্য করতে ছাত্রলীগ দুই দিনের কর্মসূচি দিয়েছে। এ ছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রা, কনসার্টসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে এবং সকলের জন্য উপভোগ্য করতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা নেবে বলে জানান তিনি। এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেবে, যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
