মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক ইসমাইলিয়া চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের সুবর্ণা সেঁজুতি টুসির স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মীনালাপ’। ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকদের নিমন্ত্রণে গত ১০ এপ্রিল টুসি মিশরের আয়োজনস্থলে পৌঁছেছেন। টুসি জানিয়েছেন, ‘এখানে উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অন্যতম পাদপীঠ মিশরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখানো হবে। মীনালাপ ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল মোট ২বার প্রদর্শিত হবে।’
এ পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মীনালাপ পুরস্কৃত হয়েছে। সর্বশেষ মার্চে কলকাতার নন্দনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দক্ষিণ এশিয়া স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে মীনালাপ জিতে ‘ঋত্বিক ঘটক স্বর্ণপদক’। এর আগে নেপাল আন্তরাষ্ট্র চলচ্চিত্র উৎসবে মীনালাপ ‘মাউন্ট এভারেস্ট’পদকে ভূষিত হয়। ‘মীনালাপ’ ইউরেশিয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গ্র্যান্ড প্রিক্স পুরস্কার, তাজিকিস্তানে ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড, শিলিগুড়ি ও মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির মর্যাদা অর্জন করে।
পরিচালক সুবর্ণা সেঁজুতি জানান, ২৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ চলচ্চিত্রটির গল্প গড়ে উঠেছে এক বাঙালি দম্পতির জীবনসংগ্রাম, আশা ও স্বপ্ন নিয়ে। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’র প্রযোজনায়। চিত্রগ্রহণ করেছেন অর্চনা গাঙ্গরেকর। শব্দগ্রহণ করেছেন স্বরূপ ভাত্রা, শিল্প নির্দেশনায় হিমাংশী পাটওয়াল এবং সম্পাদনায় ছিলেন ক্ষমা পাডলকর।
উল্লেখ্য, সুবর্ণা সেঁজুতি, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে টুসি নামেই পরিচিত। ছোটবেলা থেকে জড়িত মঞ্চ নাটকে। সাংবাদিকতা, টেলিভিশনে উপস্থাপনা আর স্কিপ্ট গ্রন্থনার কাজও করেছেন। পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে ফিল্ম ডিরেকশন ও স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন। সুবর্ণা সেঁজুতি এর আগে জাদু মিয়া (২০১১), পারাপার (২০১৪) ও পুকুরপাড়সহ (২০১৮) কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
