জনরোষের মুখে নরম হচ্ছে সুদানের সেনাবাহিনী

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩২ পিএম

টানা আন্দোলনের মুখে শনিবার বিকেল নাগাদ সুর পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী। সামরিক কাউন্সিলের নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান আবদেলহমান বলেছেন, বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে এটি করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

শুধু অঙ্গীকার নয়, কাজেও তাদের নরম হওয়ার প্রমাণ মিলছে। আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান তার প্রথম ভাষণে রাতের জরুরি অবস্থা উঠিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে জরুরি আইনের আওতায় সকল বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ডিসেম্বর থেকে সুদানের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন। শুরুতে বিক্ষোভের ইস্যু ছিল অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ। ধীরে ধীরে সেটি সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিন দশক ধরে সুদান শাসন করা ওমর আল-বশির ।

এরপর একটি সামরিক কাউন্সিল গঠন করে দুই বছরের জন্য দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেয় সেনাবাহিনী। কিন্তু তারপরও আন্দোলন থামেনি। সরকার বিরোধী আন্দোলন চলে যায় সেনাবাহিনীর বিপক্ষে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সামরিক কাউন্সিলের জেনারেলরা বশিরের ঘনিষ্ঠ। এমন অবস্থায় নবগঠিত সামরিক কাউন্সিলের প্রধান জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফও পদত্যাগ করেন। তিনি দায়িত্ব দেন আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানকে।

সুদান ট্রিবিউন জানিয়েছে, আন্দোলনকারী সংগঠন থেকে সাধারণ মানুষকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সাধারণ জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে না দেওয়া হবে, ততক্ষণ সেনা সদর দপ্তরের সামনে অবস্থানের ডাক দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত