ভক্ত-স্বজনদের টানাটানিতে দাফন হচ্ছে না ‘মোটা মামা’র

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৫৬ এএম

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দুকোনা এলাকায় লাল মিয়া ফকিরের (৮০) মৃত্যুর একদিন পরও দাফনের স্থান নিয়ে দুই পক্ষের সমাঝোতা না হওয়ায় দাফন করা যায়নি। মৃত লাল মিয়া এলাকায় ‘মোটা মামা’ ও ‘আধ্যাত্মিক ফকির’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তির দাফন নিয়ে ভক্ত ও পরিবারের লোকজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত থানা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি বিধায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লাশটি এখন থানা হেফাজতে নিয়েছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত লাল মিয়া ফকির শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা গ্রামের ভক্ত ইনছান মিয়ার বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।

ওই মৃত ব্যক্তির গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের চিটুয়া নওপাড়া গ্রামে। তিনি গত চার মাস ধরে ঘর-বাড়ি ছেড়ে সান্দিকোনা গ্রামের ভক্ত ইনছান মিয়ার বাড়িতে বাস করছিলেন। ভক্ত ও বাড়ির মালিক ইনছান মিয়া একপর্যায়ে ওই ফকিরের নামে দশ শতাংশ জমিও লিখে দেন।

‘মোটা মামা’ মারা যাবার পর ওই ভক্তের বাড়িতে তার জন্য কবরও খনন করা হয়। খবর পেয়ে মৃতের স্বজনেরা সান্দিকোনা গ্রামে ছুটে যান এবং মরদেহটি তাদের গ্রামের বাড়িতে আনার জন্যে দাবি জানান। কিন্তু ভক্তরা তা কোনো অবস্থাতেই মানতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি ইমারাত হোসেন গাজী সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে জানাজাস্থল সান্দিকোনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের খেলার মাঠে ছুটে আসে।

পুলিশের উপস্থিতিতে বিকেল ৪টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও দুই পক্ষের বিরোধের কারণে মরদেহটি দাফন করা যায়নি।

পরবর্তীতে কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, ওসি ইমরাত হোসেন গাজী এবং সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম ও পাইকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  হুমায়ূন কবির চৌধুরী উভয়পক্ষকে নিয়ে সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে বৈঠকে বসেন।

ওই বৈঠক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চললেও মরদেহটি দাফনের বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। বৈঠক শেষে বিরোধ এড়াতে মৃতদেহটি থানা হেফাজতে নিয়ে আসে পুলিশ।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী দেশ রূপান্তরকে জানান, মৃতদেহের দাফন নিয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান থেকে ছাড় দিতে নারাজ। তাই বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় মৃতদেহটি এখন থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত