চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি পরিচালনায় কোম্পানি হচ্ছে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৮ এএম

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনায় একটি কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই এ কোম্পানি গঠন করা হবে বলে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয় ও ট্যানারি শিল্প মালিকরা। আগামী জুনে চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের মেয়াদ শেষের আগে সিইটিপিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেবে এই কোম্পানি।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের সঙ্গে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের আগে বিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সালমান ফজলুর রহমানের সঙ্গে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আজ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) নিরীক্ষক ও ইতালির পরামর্শকের প্রতিবেদন অনুযায়ী শিল্পনগরীর সিইটিপির সার্বিক নির্মাণকাজ ভালো হয়েছে। যদিও সিইটিপি সঠিকভাবে চালু করতে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে তা সহজেই সমাধানের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শতভাগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে।

চামড়া শিল্পনগরীর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যান্ডফিল্ড ডিজাইন অনুযায়ী বর্জ্য ডাম্পিং এবং তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ক্রোম সেপারেশন ইউনিট সচল করতে হবে বলে এ বিষয়ে গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ট্যানারিতে পানির অপচয়রোধ ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিসিকের মাধ্যমে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। 

বৈঠকে আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শিল্পনগরীর উন্নয়নে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যার ২০ শতাংশ অর্থ ট্যানারি মালিকদের পরিশোধ করতে হবে। সাভার শিল্প নগরীতে বরাদ্দ দেওয়া প্লটের মূল্য প্রতি বর্গফুট প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা বিসিক নির্ধারণ করলেও ট্যানারি মালিকরা ১৯০ টাকার বেশি দিতে রাজি চায়নি। গতকালের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ২০ শতাংশ হিসেবে প্রতি বর্গফুট প্রায় ৪৭১ টাকা পড়বে। এই টাকা এককালীন কিংবা কিস্তিতে পরিশোধ করলে প্লটের জমির দলিল পাবেন ট্যানারি মালিকরা। 

সভায় সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য পূরণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া শিল্পে বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ গ্রহণের মাধ্যমে দেশীয় গুণগতমানের চামড়া ব্যবহার করে এ খাতে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এলডব্লিউজির সনদ না পাওয়ায় চীন থেকে চামড়া আমদানি করে পণ্য রপ্তানি করা দুর্ভাগ্যজনক। চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির এলডব্লিউজির সনদ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের দায়ে দেশের চামড়া থেকে পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। অতি দ্রুত সিইটিপি সংশোধন করে ট্যানারি মালিক ও বিসিককে দায়িত্ব নিতে হবে। আর কোনো ব্লেম গেম নয়, আগের ভুল নিয়েও কোনো আলোচনা নয়। এখন সবাই মিলে সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে সঠিকভাবে চামড়া শিল্পনগরী চালু করা যায়।  

অনুষ্ঠানের সভাপতি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসের মধ্যে কোম্পানি গঠন করে এর পরে এটি পরিচালনার দায়িত্ব ট্যানারি মালিকদের নিতে হবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না কমালে চার্জ ধার্য করা হতে পারে। এ সময় পানি ও বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য শিল্পনগরীতে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বিসিকে নির্দেশনা দেন তিনি। 

এপেক্স ট্যানারির চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর ইলাহী বলেন, সারা বিশে^ কোম্পানি গঠন করে চামড়া শিল্পনগরী পরিচালিত হচ্ছে। এ দেশেও কোম্পানি গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। এ জন্য দ্রুত কোম্পানি গঠন করে দায়িত্ব নেবেন ট্যানারি মালিকরা।

এলএফএমইএবি’র চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভালো মানের পণ্য তৈরি করেও রপ্তানি করতে পারছি না। এলডব্লিউজির সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না। যেভাবে হোক এ সমস্যা সমাধান করতে হবে।

বিএফএলএলএফইএর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, চামড়া শিল্পনগরী পরিচালনার জন্য কোম্পানি গঠন করা হবে। কিন্তু শিল্পনগরী আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগে সিইটিপিসহ সব কাজ বিসিককে শেষ করতে হবে। যাতে ভালোভাবে সিইটিপি চালানো সম্ভব হয়। 

বিটিএ চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থাপিত সিইটিপিকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ বর্জ্য পরিশোধনাগার। এটি পুরোমাত্রায় ব্যবহার করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প খাত এশিয়ায় সপ্তম স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে চলে আসবে। বর্তমানে প্রতি টন চামড়ায় ৫০ হাজার লিটার পানি ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমাপ হচ্ছে প্রতি টনে ২৬ হাজার লিটার। পানির ব্যবহার কমানো গেলে বর্জ্য কম হবে এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত