সোনাগাজীতে দুই সন্তানের জননীকে দল বেঁধে ধর্ষণ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:২১ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানির পর তাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের মধ্যে ওই এলাকায় দুই সন্তানের জননী এক নারীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ওই নারী নিজেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ যুবলীগকর্মী হিসেবে পরিচিত নূর আলম নামে একজনকে আটক করেছে বলে আদর্শগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শ্যামল দাস জানান।

এসআই শ্যামল দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, লিখিত অভিযোগে দক্ষিণ চর দরবেশ আদর্শগ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে নূর আলম (৩০) ছাড়াও আব্দুল হাদির ছেলে মোশারফ হোসেন ও আব্দুল হালিমের ছেলে আলামকে আসামি করা হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে বৃহস্পতিবার (আজ) ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হবে।

ওই নারীর স্বামী সোহাগ বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি টয়লেট করতে বের হলে ওঁৎ পেতে থাকা ওই তিনজন তার মুখ চেপে ধরে পাশের পুকুরপাড়ে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে নূর আলম পা দিয়ে তার বুকের ওপর আঘাত করে ও মোশারফ কিছু খাইয়ে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে যায়। বুধবার সকালে তার জ্ঞান ফেরার পর বিকেলে তিনি অভিযোগ করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদশর্ক (তদন্ত) কামাল হোসেন পিপিএম বলেন, এ বিষয়ে আইনগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িত একজনকে আটক এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসার আলিমের ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন তার মা। এর পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে প্রতিবাদে অনড় ছিলেন নুসরাত। গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ দিন লড়ার পর মারা যান নুসরাত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত