১৫ লাখ ব্যবহারকারীর ইমেইল নিয়ে ফেসবুকের ‘ছেলেখেলা’!

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৫২ এএম

ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি রক্ষা করতে না পারার অভিযোগের ভেতর নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ফেসবুক। বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে, ফেসবুক নিজেদের ওয়েবসাইটে ১৫ লাখ ব্যবহারকারীর ইমেইল তাদের না জানিয়ে আপলোড করেছে। অবাক করার বিষয় হলো প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে এই ঘটনা তারা বুঝতেই পারেনি!

সিএনবিসি’র কাছে ফেসবুকের এক কর্মকর্তা এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, ওই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে যায়নি। ধীরে ধীরে সব ডিলিট করা হচ্ছে।

‘এই সমস্যা ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। যাদের মেইল আপলোড করা হয়েছে, তাদের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের অজান্তে।’

ফেসবুকের এই ইমেইল কেলেঙ্কারি প্রথম বুঝতে পারেন একজন প্রযুক্তি গবেষক। তিনি দেখতে পান, ২০১৬ সালের দিকে নতুন ব্যবহারকারীদের ইমেইল পাসওয়ার্ড লিখতে উৎসাহিত করছে ফেসবুক।

ফেসবুকের দাবি, অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইমেইল দিয়ে ভেরিফায়েড করলে বন্ধুদের সহজে খোঁজা যায়।

ফেসবুক এমন দাবি করলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন এই ছেলেখেলার ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। ব্যবহারকারীর মেইল ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে তারা। নিজেদের ওয়েবসাইটে ইমেইল আপলোড করে সেগুলো বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে উন্মুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আরও আগে থেকে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে গ্রাহকের তথ্য বিক্রি করে তারা। সেই তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পকে নির্বাচনী প্রচারে সহায়তা করে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হলে জাকারবার্গ বিপাকে পড়েন। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়। শুধু তাই নয়, গ্রাহকের তথ্যের অপব্যবহার করায় ব্রিটিশ এমপিদের কাছে ব্যাখ্যাও দিতে হয় তাকে।

সম্প্রতি পিউ রিসার্চ জানায়, একজন ব্যবহারকারী কোন কোন পেজে বেশি সময় কাটান, কী বেশি খোঁজেন, তার পছন্দের তালিকায় কী রয়েছে এসব তথ্য ফেসবুক নিয়মিত সংগ্রহ করে। তারপর সেটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে ফেসবুকে নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইমেইল সংক্রান্ত নতুন কেলেঙ্কারি নিয়ে ফেসবুকের বক্তব্য: ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড করতে গত মাস থেকে আমরা ইমেইল পাসওয়ার্ড ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বন্ধ করেছি। এটি করা হতো নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে।’

‘এভাবে অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ইমেইল ঠিকানা আমাদের অজান্তে ওয়েবসাইটে আপলোড হয়ে যায়। আমাদের ধারণা, প্রায় ১৫ লাখ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। এগুলো বাইরের কারও সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত