ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্প-ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৪৭ পিএম

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকল্প ও বিভিন্ন ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ভোক্তভোগীরা গত মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে। তবে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন পাড়া গ্রামের (৩ নং) ওয়ার্ড সদস্য লাল মিয়ার মাধমে বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি ভাতা, গর্ভবতী ভাতাও লুট করেছেন। তাছাড়া কাবিখা, টি আর এবং রাজস্ব খাতের টাকার প্রকল্প দিয়ে কোনো কাজ না করেই টাকা উঠিয়ে আত্মসাত করেছেন। আবার কোনো প্রকল্পে কিছু টাকার কাজ করে সব টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মানুষ গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌসের কাছে ৩টি অভিযোগপত্রের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যের অর্থ আত্মসাতের বিবরণ তুলে ধরেন।

এ ব্যাপারে পাড়া গ্রামের ফজলু মিয়া বলেন, “৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. লাল মিয়ার মাধ্যমে সরকারের বিনা মূলে ঘর তৈরি কথা বলে, একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কাছে থেকে ২৫ হাজার টাকা নেন। এছাড়া বয়স্ক, গর্ভবতী ভাতা, ৪০ দিনের কর্মসূচির নামে আরও ১০ জনের নামে ৮০ হাজার ৫শত টাকা আত্মসাত করেন।”

পাড়া গ্রামের সাকিব বলেন, “২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের কাছিধারা রাস্তা হতে পাড়াগ্রামের কামারবাড়ী ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৬ লাখ টাকা এবং পাড়াগ্রাম কামারবাড়ী ব্রিজ হইতে কাছিধারা রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন দুইটি প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ টাকার কাজ করে বাকি ৬ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।

২০১৭- ২০১৮ অর্থ বছরে পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্রিজ হতে মমিন মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের ৫০ হাজার, মমিন মাস্টারের বাড়ি হতে কামারবাড়ী পাকা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার, পাড়াগ্রাম-কামারপাড়া ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট ও বাচ্চু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ১ লাখ, ফেচুয়াধারা বাজার হতে পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ১ লাখ টাকা এবং পাড়াগ্রাম ক্লাব হতে কামারবাড়ী পাকা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেন। কিন্তু এ ৫টি প্রকেল্পর আংশিক কাজ করেই টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্যই এমন মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি একটি টাকা আত্মসাত করেছি এমন যদি প্রমাণ করতে পারলে তখনই আমি পদত্যাগ করব।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, প্রকল্পের টাকা ও বিভিন্ন ভাতার টাকা শিমুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন আত্মসাতের করেছেন এমন একটি লিখিত অভিযোগ গত বুধবার হাতে পেয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত