তৃণমূল থেকে দলকে ঢেলে সাজাব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৪ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যদিও ক্ষমতাসীন দলের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে হ্রাস পায়, কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টামন্ডলীর যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নির্বাচনে বিএনপি জোটের এই ভরাডুবির কারণ সম্পর্কেও নিজের মত তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি বলেন, অন্যদিকে যদি দেখি বিএনপি আর জামায়াতের অবস্থাটা, যেহেতু মিলিটারি ডিকটেটর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে একটা পরজীবীর মতো। তারা যে নির্বাচন করেছে সেখানে ৩০০ আসনে তারা ৬৯২-৯৪টার মতো নমিনেশন দিয়েছে এবং নির্বাচনটা তারা মনে করেছিল যেন ব্যবসা। সিট বেচে কিছু পয়সা কেউ কামাই করে নিয়েছে। ইলেকশনের দিকে তাদের খুব একটা নজর ছিল না। শেখ হাসিনা বলেন, আর একটা কারণ আমি বলব, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যে একটা সার্ভে করা হয়েছিল সেই সার্ভেতে তখন থেকে স্পষ্ট আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়, আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। তাই তারা নির্বাচন করার থেকেও সিট বিক্রি করা, সেখানে একটা বাণিজ্য করা অর্থাৎ নমিনেশন বাণিজ্যটাকেই তারা গুরুত্ব দিয়েছে। যার জন্য তাদের এই হাল।

দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠন শক্তিশালী করার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এই উদযাপনের লক্ষ্য নিয়েই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা সরকারিভাবেও কমিটি করেছি, ব্যবস্থা নিয়েছি। পার্টির পক্ষেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা একটা কমিটিও করেছি। সেই কমিটির মাধ্যমে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, ২০২০ থেকে ২০২১ সাল। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা উদযাপন করব। এ সময়টাকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকে এখানে আলাপ-আলোচনা করব।

দলের নেতাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা প্রেসিডিয়াম মিটিং করেছি। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কার্যকরী সংসদের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আটটা বিভাগে আটটা কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো এবং গড়ে তোলা। কোথায় কমিটি আছে না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদই ছিল তাদের কাজ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গত জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, গত সাধারণ নির্বাচনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছে যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং শিক্ষকসহ সব পেশার মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন ও নারী ভোটাররা আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে। তাই তারা আমাদের সেবা পেতে নৌকার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এ সময় দলের প্রেসিডিয়াম, নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টাম-লীর সদস্যদের সমন্বয়ে সদ্য গঠিত আটটি কমিটিকে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলের পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করা। শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপে গত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিএনপি হয়তো মনোনয়ন বাণিজ্য করতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত