সিংগাইর উপজেলার তালেবপুরের ইসলামনগর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইসলামনগর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল (২১), রবিউল দেওয়ানের ছেলে সুজন (২৮), দ্বীন ইসলামের ছেলে ফজর আলী (১৮), আবদুল মান্নানের ছেলে শিপন খান (১৮) ও চুন্নু খানের ছেলে দিপু (১৯)। সিংগাইর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কালীনগর গ্রামের জনৈক প্রবাসীর সঙ্গে বছরখানেক আগে বিয়ে হয় ইসলামনগর গ্রামের ওই গৃহবধূর (১৯)। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে হরিরামপুর উপজেলার কলেজছাত্র আকাশের (২০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার রাতে আকাশ তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে ইসলামনগরে আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে আকাশকে আটকে মোবাইল ফোনে ওই গৃহবধূকে বাড়ির বাইরে ডেকে আনে আসামিরা। পরে আকাশকে বেঁধে গ্রেপ্তারকৃতরাসহ আরও দুজন তাকে ধর্ষণ করে।
ওসি বলেন, গতকাল ভোরে আকাশ তার ভাইকে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানালে পুলিশের হেল্প লাইন ৯৯৯-এ সাহায্য চাওয়া হয়। পরে পুলিশের হেল্প লাইন বিষয়টি সিংগাইর থানাকে অবহিত করে। সকালে সিংগাইর থানা পুলিশ ওই প্রবাসীর স্ত্রী ও আকাশকে ইসলামনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করে। পরে প্রবাসীর স্ত্রী সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। ওই গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাগেরহাটে মাদ্রাসাছাত্রী ‘ধর্ষণ’ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপালে মাদ্রাসাছাত্রী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের তথ্য গোপন ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার শরাফপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার হলো।
দুজনকেই গতকাল শনিবার দুপুরে বাগেরহাটে মাদ্রাসাছাত্রী ‘ধর্ষণ’
অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বাগেরহাটের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে আবেদন করছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপরে শিশুটির এক মামা বাদী হয়ে অধ্যক্ষ ওলিয়ার ও মুদি দোকানি ফেরদৌস শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে রামপাল থানায় মামলা করেন। ওই দিন দুপুরে পুলিশ ফেরদৌসকে (১৮) এবং রাতে ওলিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সকালে ওলিয়ারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, মামলার অন্য দুই আসামিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বাগেরহাটের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করা হচ্ছে।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মশিউর রহমান জানান, শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, রামপাল উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রীনিবাসে থেকে পড়ালেখা করছিল শিশুটি। মাদ্রাসার সামনের মুদি দোকানি ফেরদৌসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১১ এপ্রিল রাতে ফেরদৌস কৌশলে মেয়েটিকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
