জুভেন্তাস ঘরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাইরে ব্যর্থ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৩০ পিএম

ঘরে মানে সিরি-আ’তে জুভেন্তাসের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। টানা আটবারের ‘স্কুদেত্তো’ চ্যাম্পিয়ন তারা। সবচেয়ে বেশিবার সিরি-আ ট্রফি জয়ের ইতিহাসও তাদের। এখন পর্যন্ত ৩৫ বার শিরোপাজয়ী। অথচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেই দলটাই ব্যর্থ। ১৯৯৬ সালে শেষবার ইউরোপসেরা হয়েছিল জুভেন্তাস। এরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেও সফল হতে পারেনি ওল্ড লেডিরা। এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দলকে। অথচ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আসার পর তাকে ঘিরে পরিস্থিতি বদলের স্বপ্ন দেখছিল ক্লাবটি। আয়াক্সের কাছে হার মানার পর মনে হচ্ছে জুভেন্তাসের ভাগ্য বদলানোর জন্য একা রোনালদোর জিনিয়াস যথেষ্ট নয়। তাহলে আর কী দরকার? ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে রোনালদোকে কিনেছিল

জুভেন্তাস। পর্তুগিজ তারকা আসার আগের মৌসুমে পাওলো দিবালা দারুণ খেলেছিলেন। ২২টি গোল করেছিলেন তিনি। এবার রোনালদোর ছায়ার আড়ালে থাকা আর্জেন্টাইন তারকা করেছেন মাত্র ৫ গোল। আরও ইউরো খরচ করে তাহলে কি অন্য কাউকে রোনালদোর সঙ্গী করা প্রয়োজন? এমনটা কেউ বলছেন না। বরং উল্টো তাদের ধারণা, জুভেন্তাসের আক্রমণভাগ যথেষ্ট ভালো। সমস্যাটা আসলে রক্ষণভাগে। আয়াক্সের বিপক্ষে হারের কারণও রক্ষণের ভুল। জুভেন্তাসের ডিফেন্ডার চিয়েল্লিনি তার সোনালি সময় পেছনে ফেলে এসেছেন। তার বয়স এখন ৩৪। আন্দ্রে বারজাগালিও ৩৭ বছরে পৌঁছে গেছেন। এই মৌসুম শেষে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আয়াক্সের বিপক্ষে রক্ষণ সামলাতে মিডফিল্ড থেকে বালাসি মাতুইদি আর মিরালেম পানিক নিচে নেমে আসছিলেন কেন এর উত্তর বোধহয় আর ব্যাখ্যা করে বলার দরকার নেই।

২০১৪-১৫ মৌসুমে জুভেন্তাসের দায়িত্ব নেন অ্যালেগ্রি। তার তত্ত্বাবধানে ২৬৬টি ম্যাচ খেলেছে দল। জিতেছে ১৯১ ম্যাচে। সাফল্যের হার শতকারা ৭১.৮০ ভাগ। ট্রফি জিতেছে ১১টি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালও খেলেছে কিন্তু জিততে পারেনি। তাই ম্যানেজারের সাফল্যকে ঠিক বিপ্লব বলা যাচ্ছে না। অ্যালেগ্রি মনে করেন, ইউরোপসেরা হতে হলে ‘দলের খেলার গুণগত মানের পরিবর্তন করতে হবে’। ম্যানেজারের

মন্তব্য থেকে পরিষ্কার, আক্রমণ এবং রক্ষণ মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল হয়ে উঠতে হবে

জুভেন্তাসকে। এখনো তারা যা হয়ে উঠতে পারেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়তো একার প্রতিভায় কোনো ম্যাচ বের করে দেবেন। উদাহরণ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে পর্তুগিজ তারকার হ্যাটট্রিকের কথা বলা যাতে পারে। কিন্তু সব বড় ম্যাচে কারও একার পক্ষে বারবার এটা করা সম্ভব নয়। তাই দিবালাদেরও ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

এবার কুদেত্তা জয়ের পর রোনালদো বলেছেন, ‘এটা ছিল অসাধারণ একটা মৌসুম। আমিও দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছি। আমরা কুদেত্তা এবং ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতেছি। এই অর্জন মোটেই সহজ নয়।’ একটা ঘোষণাও দিয়েছেন রোনালদো, ‘আমরা এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভালো করতে পারিনি। কিন্তু পরের বছর নতুনভাবে শুরু করতে হবে। সমর্থকরা এটা জিততে চায়। আমরাও চাই।’ রোনালদোর এই চাওয়া পূরণ করতে হলে অনেক দূরের পথ পেরোতে হবে জুভেন্তাসকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত