নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আগামী ৬ মে চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। এদিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ তার অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির করতে পারেনি মর্মে এক কাস্টডি ওয়ারেন্ট প্রেরণ করে।
এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এটি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। এ মামলায় দ- বাতিল ও খালাস চেয়ে খালেদার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দিন ধার্য করে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।
নাইকো দুর্নীতি মামলায় এর আগে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বিচারক তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের দিন ঠিক করেন। নাইকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট আবেদন গত বছর ১৮ জুন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে মামলার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ওই নির্দেশনা দেয়।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ মামলায় দ- বাতিল ও খালাস চেয়ে খালেদার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দিন ধার্য করে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।
আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আজ (গতকাল) এই আপিলের শুনানির জন্য ম্যানশন করেছিলাম। আগামী মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) এ বিষয়ে শুনানি হবে। আমরা আশা করছি ওইদিন অ্যাডমিশন আবেদনের সঙ্গে জামিনের আবেদনেরও শুনানি হবে।’
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় গত বছরের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় আরও দণ্ডিত হন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী (পলাতক), হারিসের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
