সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় নিরপরাধ টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাভোগের বিষয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানিসহ সব কার্যক্রম আগামী ১৩ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলা শুনানির ক্ষেত্রে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে দুদকের করা একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, আগামী ১৩ মে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠিয়েছে চেম্বার জজ আদালত। তবে জাহালমের জামিন চলমান থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ‘দুদকের মামলা শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ দেওয়া আছে। কিন্তু এ ঘটনায় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছে এবং রুল শুনানি করছে। কিন্তু এই বেঞ্চের দুদকসংক্রান্ত কোনো কিছু শোনার এখতিয়ার নেই। আমরা আমাদের আবেদনের সমর্থনে আপিল বিভাগের একটি রায়ও দেখিয়েছি।’
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল জাহালমের কারাভোগ নিয়ে দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করে পরবর্তী শুনানির জন্য ২ মে দিন ধার্য করে হাইকোর্ট।
সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনার হোতা ৩৩ মামলার আসামি আবু সালেকের পরিবর্তে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধুবুড়িয়া গ্রামের জাহালমকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে ২৬টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। শুনানি নিয়ে আদালত তাৎক্ষণিক কারামুক্তির নির্দেশ দিলে ওই রাতেই গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাহালম মুক্তি পান।
